
হাওরঅঞ্চল থেকে বিশেষ প্রতিনিধিঃ কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় জারইতলা ইউনিয়নের মেয়াদ উত্তীর্ণ অকেজো ইউপি ভবনটি এখন স্থানীয়দের চলার পথে ভয়ের কারণ। এছাড়াও জেলার অতি প্রাচীন বাজার এবং সর্ববৃহৎ গরুর হাটের ব্যাপকতার পথেও বেশ বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এখানকার একাধিক মেয়াদ উত্তীর্ণ প্রাচীন ভবন। গুপিরায় নামক বাজারের উন্নতি আর জননিরাপত্তার দিক বিবেচনা করে অপসারণেরও দাবি তোলেন স্থানীয়রা।
কিশোরগঞ্জের নিকলীর গুপিরায় বাজারের গরু হাটের নিজেস্ব জায়গা না থাকলেও সরকারী প্রাঃ বিদ্যালয় মাঠ ঘিরে, বেসরকারী মালিকানার জায়গাকে কেন্দ্র করে এমনকি সরকারি রাস্তার উপরেও বসে জেলার বৃহৎ একটি গরুর হাট। এই হাটের উপর নির্ভর করে চলে ১৩ সমাজ নামের সকল সামাজিক মসজিদ ও মাদ্রাসা। তাই এলাকাবাসীর দাবি এই পুরাতন ভবনটি যদি ভেঙ্গে হাটের জায়গার পরিধির ব্যাপকতার লক্ষ্যে আশেপাশের সরকারি ইজারাধীন জায়গা দীর্ঘ মেয়াদীতে বাজারের নামে ইজারার ব্যবস্থা করে দিলে একদিকে গরু হাটের সরকারি ইজারা মূল্য বেড়ে যাবে অপর দিকে এলাকাবাসীরও দুর্ভোগ অনেকটা লাঘব হবে। এই ভবনের ভেতরে কয়েক যুগ ধরেই ফাটাল ধরে আছে। ভবনের চাদ ও ভিমের প্লান্টার প্রায়ই ধ্বংসে পড়ছে মেঝেতে। অস্বাস্থ্যকর আর অপরিচ্ছন্ন অবস্থা বিরাজমান থাকায় ভবনের ভেতর ও আশপাশ দিয়ে এলাকাবাসী চলাফেরাও করতে ভয়ে থাকে। শীতকালে এতে অধিক পরিমাণে দুর্গন্ধও ছড়ায়। নাক চেপে ধরা ছাড়া বিকল্প কোন উপায় থাকে না পথচারীদের। বিশেষ করে পিছন দিকে চলাচলকারীদের। অকেজো ভবন আর অপরিকল্পিত দোকানপাট নির্মাণের কারণে ইজারাধীন গুপিরায় বাজারের পরিবেশও অনেকটা বাজারের উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অনেকের অভিমত।
এলাকাবাসীর দেয়া তথ্য মতে বাপদাদার কাছ থেকে অনেককেই শোনে এসেছেন মূল বাজারটি পাকিস্তান আমল থেকে শুরু হলেও ব্যাপকতা ও বিশাল আকারে ইজারায় আসে ২০০৯ সাল থেকে গরু হাটে পরিণত হওয়ার পরে। ২০২৪ সালে ভ্যাট আয়কর ছাড়াই ৩২ লাখ টাকায় ইজারা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সপ্তাহের প্রতি বুধবারে স্থানীয় বিভিন্ন দোকানি ও পাইকার মিলে এভারেজ প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা আয় করে থাকেন এই হাটকে ঘিরে। ঘনবসতিপূর্ণ এই দুই গ্রামে ১০ হাজারের কাছাকাছি জনগণসহ আশেপাশের আরও বেশ কয়েকটি গ্রামের জনগণ এই বাজারে শনি ও বুধবারে কেনাকাটা করে থাকে। বুধবার হলে সমগ্র বাংলাদেশের অসংখ্য গরু পাইকার ও ক্রেতা বিক্রেতার সমাগম ঘটে। সরকারের কাছে এলাকাবাসীর দাবি স্থানীয় উন্নয়নের লক্ষ্যে আর বাজারের সুনাম রক্ষার্থে হাটের জায়গার সমস্যা বিবেচনায় আনার বিষয়ে।
স্কুল মাঠে গরুর হাট, জায়গার স্বল্পতা আর বেশ কিছু অনিয়ম নিয়ে সুদীর্ঘ ১৬ বছরের মধ্যে প্রায়ই খবরের শিরোনাম হয়েছে এই হাট ঘিরে। যদিও সাংবাদিকদের অনুসন্ধানী নজরদারিতেই শিক্ষার পরিবেশসহ শৃংখলার অনেকটা পরিবর্তনও এসেছে বলে জানান স্থানীয় সাধারণ জনগণ।
স্থানীয় গরু হাটের ক্যাশিয়ার প্রবীর কুমার দাসের ভাষ্যমতে, তার বাবা ভুপেন্দ্র দাসও ১৯৬৬ সাল ১৯৭০ সাল পর্যন্ত মেম্বারদের ভোটে চেয়ারম্যান থাকা অবস্থার এই ভবনে ছিলেন এর আরও অনেক আগেই তৈরি এই ভবন । যা তিনি তার বাবার কাছে শুনেছেন। এছাড়াও সরকারি কীটনাশক রাখা হতো অপর ভবনটিতে। দুটোই মেয়াদ উত্তীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বলে তিনি জানান।
জারইতলার প্যানাল চেয়ারম্যান ইসহাক রানার ভাষ্য, উন্নয়নের লক্ষ্যে পুরাতন বাজারটির দিকে সুষ্ঠু তদরকির পাশাপাশি অকেজো ভবনটির বিষয়ে প্রশাসন নজর দিলে স্থানীয়দের উপকার হবে, সরকার অধিক পরিমাণে ইজারা পাবে এ হাট থেকে।
নিকলী উপজেলার নিবার্হী কর্মকর্তা মোছাঃ পাপিয়া আক্তারকে সরকারি মুঠোফোনে ১টা ৩৪ মিনিট থেকে একাধিকবার ফোন দিলেও পাওয়া যায়নি
কিশোরগঞ্জের জেলাপ্রশাসক ফৌজিয়া খানের কাছে জারইতলার মেয়াদ উত্তীর্ণ ভবন ও জনগণের অসুবিধা ও সুবিধার কথা তুলে ধরা হলে তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে ইউএনকে জানানো হয়েছে কি না? আজও ইউএনকে একাধিকবার ফোন করা হয়েছে ‘তাকে পাওয়া যায়নি’ বলা হলে জবাবে দুই মাস হয়েছে তিনি এখানে আসলেও স্থানীয়দের কেউ বিষয়টি নিয়ে তাকে জানাননি। তবে খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলেও আশ্বস্ত করেন।