তারেক রহমান একটি আস্থার নাম, পরিবর্তনের প্রত্যাশায় অপলক তাকিয়ে রয়েছে জাতি।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আজ যে নামটি সর্বাধিক আলোচিত তিনিই হলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ভবিষ্যৎ জাতীর কর্ণধার। নির্বাসনে থেকেও দলের নেতৃত্বে যার দৃঢ়তা, কৌশল ও দূরদর্শিতা এক নতুন অধ্যায় রচনা করতে যাচ্ছে।
সম্প্রতি আলোচনায় উঠে এসেছে কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনের আলোচ্য বিষয়। এখানে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র আকার ধারণ করলে বিচক্ষণতার সাথে চোখ রেখেছেন তিনি। একদিকে জোট, অন্যদিকে দলীয় নেতাদের চাওয়া।
তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বের গুণাবলীর কারণেই প্রার্থীদেরকে যেমন সংযম ও কৌশলের পরিচয় দিতে দেখা যাচ্ছে, ঠিক তেমনি কিছু অতি উৎসাহী সমর্থক ও স্থানীয় নেতা-কর্মীর মধ্যে পরিলক্ষিত হচ্ছে প্রতিহিংসাপরায়ণ আচরণ, বিভাজনমূলক প্রচারণা ও উচ্ছৃঙ্খল বক্তব্যের ঝড়। এ সব কিছুও গভীর নজরদারিতে রেখেছেন। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সক্ষমতা দেখাচ্ছেন।
এমন বাস্তবতা শুধু কিশোরগঞ্জ -৫ আসনেই সীমাবদ্ধ নয় বরং সারা দেশের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলের একই খন্ডচিত্র। তবে যোগ্য নেতৃত্বের গুণাবলীর কারণেই রাজনীতির মাঠে শৃঙ্খলার বদলে আবেগ, প্রতিদ্বন্দ্বিতার বদলে প্রতিহিংসা অবসানের ক্ষেত্রে অনেকাংশে সক্ষমতার পরিচয় তুলে তুলে ধরেছেন।
তারেক রহমানের বার্তা “আমার নামে কিছু চালিয়ে দেবেন না” সম্প্রতি কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে এক অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে তারেক রহমানের বক্তব্যে পাওয়া যায় এক দৃঢ় বার্তা আমার নির্দেশের বাইরে আমার নামে কেউ যেন কিছু চালিয়ে না দেয়।” এই একটি বাক্য যেন পুরো দলকেই সতর্ক করলো।
প্রশ্ন জাগে, তিনি কি হঠাৎ করেই এমনটি বললেন? নাকি তাঁর কাছে এমন কোনো বার্তা বা তথ্য পৌঁছেছে যে, কেউ কেউ তাঁর নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছেন?
যে-ই হোক, তাঁর এই সতর্কবাণী প্রমাণ করে, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মাঠপর্যায়ের চলমান বাস্তবতা সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল।
নির্বাসনে থেকেও সক্রিয় নেতৃত্ব, তারেক রহমান আজ কার্যত বিএনপির নীতিনির্ধারণী কেন্দ্র বিন্দুতে। লন্ডনের একটি ঘর থেকেই তিনি গত এক দশকে দলকে সংগঠিত রেখেছেন, বিপর্যয়ের মধ্যেও ঐক্য ধরে রেখেছেন। তাঁর পরিশ্রম, সংগঠন পরিচালনার দৃষ্টিভঙ্গি ও কৌশলী নেতৃত্ব আজ দলের প্রাণশক্তি।
দলের এক সিনিয়র নেতা সম্প্রতি মন্তব্য করেছিলেন “তারেক রহমান লন্ডনের ঘরে বসে যেমন নেতৃত্ব দিয়েছেন, সেটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অনন্য দৃষ্টান্ত।”
কেউ হয়তো এটিকে প্রশংসার অতিরঞ্জন ভাবতে পারেন, কিন্তু বাস্তবতা হলো তারেক রহমান ছাড়া বিএনপির মতো একটি বিশাল, মতবৈচিত্র্যময় দল আজ একসূত্রে গাঁথা থাকত না। বিএনপির অভ্যন্তরে কিছু তথাকথিত ‘ঘনিষ্ঠ’ নেতা রয়েছেন, যারা তারেক রহমানের নাম ভর করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালান। পদ-পদবী কিংবা স্বার্থ হাসিলের প্রয়াসে তাঁর নাম ব্যবহার এখন এক অশুভ প্রবণতায় রূপ নিয়েছে। এই মনোভাব দলকে বিভক্ত করে, নেতৃত্বকে সন্দেহের মুখে ফেলে এবং দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে।
তারেক রহমানের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এই চামচাবাজির সংস্কৃতি ভাঙা এবং ত্যাগী, দক্ষ ও নীতিনিষ্ঠ নেতৃত্বকে সামনে আনা।
জনগণের প্রত্যাশাঃ একটি গুণগত পরিবর্তন, তারেক রহমান আজ শুধুমাত্র একজন রাজনীতিক ব্যক্তি নন, তিনি এক প্রত্যাশার প্রতীক।
জনগণ চায় তাঁর হাত ধরেই রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আসুক, বিশেষ করেয় নীতির, শৃঙ্খলার, এমনকি আধুনিক নেতৃত্বের এক নতুন ধারা ফিরে আসুক।
রাজনীতির মাঠে এখন প্রয়োজন একতার, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা আর মানবতার কল্যাণে ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দলীয় স্বার্থে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠা।
সর্বোপরি কথা, বিএনপির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে নানা মত থাকলেও, একটি বিষয়ে কেউ দ্বিমত করতে পারবেন না যে, তারেক রহমান আজ দলের আস্থার কেন্দ্রবিন্দু।
তিনি এখন আর অতীতের তারেক রহমান নন। তিনি এখন পরিণত, বিচক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রনায়কের সম্ভাবনাময় প্রতিচ্ছবি।
দেশবাসীর প্রত্যাশা, এই পরিণত নেতৃত্বই আগামী দিনের বাংলাদেশে আনবে একটি নতুন রাজনৈতিক দিগন্ত।যেখানে রাজনীতি হবে আদর্শের প্রতীক, নেতৃত্ব হবে আস্থার ক্ষেত্র আর জনগণ পাবে এক স্বপ্নময় ভবিষ্যৎ।