নিজেস্ব প্রতিবেদনঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সংসদীয় আসন-১৬৬, কিশোরগঞ্জ -৫ আসনে একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল প্রায় ১৩ হাজার ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে বিজয়ী বলে জানা গেছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা, ধানের শীষ। জেলার বাকী সকল আসনেই বিএনপির প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। তবে ইসিভি, ওসিভি ও পোস্টাল ভোটের হিসাবের ক্ষেত্রে তথ্যের সামান্য কিছু তারতম্য হতেও পারে।
বাংলাদেশে এই প্রথম এতোটা শান্তিপূর্ণ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে ভোটারদের অভিমত। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৫ জন ভোটারকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট প্রদানের সুযোগ করে দিয়ে ইতিহাস তৈরি করে নিয়েছে নির্বাচন কমিশন(ইসি)। যা প্রশংসনার দাবিদার বলেও ভোটারদের অভিমত।
যদিও জেলার নিকলী-বাজিতপুরের বিক্ষিপ্ত স্থানে নির্বাচন পরবর্তীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী পক্ষের লোকদের বিরুদ্ধে আক্রমণ ও হুমকি ধামকির কিছু অভিযোগ উঠেছে। ঘরবাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী পক্ষও অভিযোগ তুলেছেন সহিংসতার বিষয়ে। সেক্ষেত্রে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকারা বিশৃঙ্খলা রুখে দিতে সদা প্রস্তুত রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।
দেশে অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের ফলে মোট প্রদত্ত ভোটের হার পড়েছে ৬০.৬৯ শতাংশ। এছাড়াও পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট পড়েছে ৮ দশমিক ১১ শতাংশ, যার পরিপ্রেক্ষিতে বৈধ ভোটের হার দাঁড়িয়েছে ৭০ দশমিক ২৫ শতাংশে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ছাড়া দেশের ৫০টি রাজনৈতিক দলই এ সকল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। ছাড়াও নতুন করে বেশ কিছু দলও অংশ করে উক্ত নির্বাচনে। বিগত সময়ের ডামি নির্বাচনসহ সকল প্রকারের অনিয়মের নির্বাচনের বিপরীত ঘটিয়ে নজীর তৈরি করে নিয়েছে সকল প্রকারের ভোটারের মাঝে। পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ের ফলে মৌলিক সংস্কার বাস্তবায়নের পথকে আরও সুগম করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রায় ৪ কোটি তরুণ ভোটারও প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছে। ইসিভি, আইসিভি ও পোস্টাল ভোট কার্যকরী হয়েছে।
তথ্য ভিত্তিক জানা গেছে, শেরপুর-৩ আসনে একমাত্র জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুজনীত কারণে সেখানকার আসনটির ভোট স্থগিত করা হয়। বাকী ২৯৯টি আসনে মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তন্মধ্যে ১ হাজার ৭৫৫ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আর বাকী ২৭৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। এদের মধ্যে নারী প্রার্থীর সংখ্যা ছিলো মোট ৮৩ জন। যার মধ্যে ৬৩ জনই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবেই অংশ নেন। তাদের মধ্য ফারজানা শারমিন পুতুল, আফরোজা খানম রীতা, ইলেন ভুট্টো, রুমীন ফারহানা, নায়াব কামাল ইউসুফ, তাহসীনা রুশদীর রুনা ও শামা ওবায়েদ রিঙ্কু। এই ৭জন নারী সরাসরি ভোটে বিজয়ী হয়েছেন।
কিশোরগঞ্জের ৬টি আসনেও অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশের মধ্যে দিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যে দিয়েই ভোট গ্রহণ ও গননা কার্যক্রম শেষে বেসরকারিভাবে ফলাফল প্রকাশ করা হয়। কিশোরগঞ্জ জেলার ৬টি নির্বাচনী আসনের মধ্যে নির্বাচনী এলাকা -১৬৬, নিকলী-বাজিতপুর ব্যতীত সকল আসনেই বিএনপির প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালই বিজয়ী হন।
কিশোরগঞ্জের নিকলী- বাজিতপুরে মোট ভোটারের সংখ্যা ৩ লক্ষ ৫৩ হাজার ৫৬৬ জন। পোস্টাল ভোট গণনা কেন্দ্রসহ মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১২০টি । সেখানে ৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীর মধ্যে স্বতন্ত্র হরিণের মোট ভোট -১৮৯৭টি, হাত-পাখা, -২৬৮৮, মোমবাতি -১৩১৩, লাঙ্গল -২৯৫, দাঁড়িপাল্লা -৫৪৪০০, হারিকেন -১৩৫, হাঁস -৭৯৬০৪ এবং ধানের শীষ প্রতীকের ৬৬৪৫০টি ভোট পড়েছে।
এরি মাঝে নিকলীতে মোট ৪৩টি কেন্দ্রে ১ লাখ ২৮ হাজার ৮৫ জন ভোটারের মধ্যে বৈধ ভোটের সংখ্যা পড়েছে ৬৮ হাজার ৯৫২টি। এছাড়াও বাতিলকৃত ভোটের সংখ্যা ১৫ শ’ ৩১টি।
উক্ত আসনে ৮ জন প্রার্থীর মধ্য থেকে নিকলীতে এ.এইচ.এম. কাইয়ুম (হাসনাত কাইয়ুম), স্বতন্ত্র থেকে হরিণ প্রতীকে পেয়েছেন ২৩৫টি ভোট, মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ১২০১টি।
মোঃ অলি উল্লাহ বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট থেকে মোমবাতি প্রতীকে ২৪৩টি। মোঃ মাহবুবুল আলম, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকে ১১১টি। মোঃ রমজান আলী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১৮ হাজার ৬২৬টি। মোঃ সাজজাদ হোসেন বাংলাদেশ মুসলিম লীগ হারিকেন প্রতীকে ৬৬টি। শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল স্বতন্ত্র থেকে হাঁস প্রতীকে ২৫ হাজার ৩শ’ ৯২টি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর ধানের শীষ প্রতীক থেকে পেয়েছেন ২৩ হাজার ৮৮টি ভোট।