• বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১১:১২ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও গুলির ঘটনায় সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের নামে মামলা নিকলীতে বালু উত্তোলনের ঘটনাসহ পৃথক ঘটনায় নিহত –২ পর্যটন হাওরে গোসলে নেমে নিখোঁজ পর্যটক ২৪ ঘণ্টা পেরিয়েও মেলেনি সন্ধান, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত হাওরে মাছ কমছে, প্রভাব পড়ছে কিশোরগঞ্জের শতবর্ষী শুঁটকি শিল্পে  নিকলীতে প্রবীণ আওয়ামীগ নেতা ও সাবেক ৪ বারের চেয়ারম্যান আজমল হোসেন গ্রেফতার  আবহাওয়ার আমূল পরিবর্তনের ফলে হাওরের জীববৈচিত্র্য, মৎস্যসম্পদ ও জনজীবনে চ্যালেঞ্জ      হাওরে প্রবেশদ্বার এলাকায় দস্যুদের তাণ্ডব: শিশুকে হত্যা হুমকিতে লুটে নেয় আড়াই লক্ষাধিক টাকা হাওরাঞ্চলের চামড়া অধিকাংশ মাদ্রাসা ও এতিমখানায় আর অনেকে পুঁতে রাখাসহ নদী ও ডোবানালায় ফেলেছেন নিকলী-বাজিতপুরে বিএনপিতে বিভক্তি, সুবিধা নিচ্ছে আ’লীগ মুষলধারে বৃষ্টিতেও শোলাকিয়ায় ঈদের নামাজীর ঢল ঐতিহ্য, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনজীবনের প্রাণকেন্দ্র বাজিতপুর বাজার

নিকলীতে প্যানেল চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ 

Reporter Name / ৭৯০ Time View
Update : রবিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২৫

প্যানেল চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতার ইন্ধনে চলে পরিষদের কীবোর্ড

নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ নিকলীতে প্যানেল চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতাকে ঘিরে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে তোলপাড় পুরো ইউনিয়ন তথা উপজেলা জুড়ে। 

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার ৫নং জারইতলা ইউনিয়নের প্যানাল চেয়ারম্যান ইসহাক রানাকে ঘিরে অনিয়ম দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে ব্যাপক সমালোচনা ঝড় শুরু থেকেই। সাম্প্রতিক অত্র ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. গিয়াস উদ্দিনের একটি লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে তা আরোও চাঞ্চল্যের জন্ম দেয়।

অনুসন্ধানে জানাগেছে, ইসহাক রানা জারইতলা ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক পদেও বহাল রয়েছেন। তিনি দলীয় পদবির ক্ষমতা ব্যবহার করে নানাবিধ সুবিধা নিয়ে চলেছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। পাশাপাশি নানাভাবে অধীনস্থদের তটস্থ করে চলেছেন বলেও জানা গেছে। এছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদের  উদ্যোক্তা মুখলেছকে আঁতাত করে হাতিয়ে নিচ্ছে জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের লক্ষ্যে মোটা অংকের টাকা।কর্তৃপক্ষের ভুলের মাশুল গুনতে হচ্ছে স্থানীয় ভুক্তভোগীদের। টাকা না দিলে ঘুরতে হয় মাসের পর মাস, আর ঘুরে না পরিষদের মাউস ও কীবোর্ড। ক্ষমতার বাহাদুরিতে তোয়াক্কা করেননি কাউকেই। মাঝে মাঝে ক্ষমতা প্রদর্শনের লক্ষ্যে দলীয় বিএনপির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের পরিষদে এনে নিজের চেয়ারে বসিয়ে রাখেন। ভুক্তভোগী অসংখ্য স্থানীয়ের ভাষ্যমতে, মুখে ইসহাক রানার মুখে সদা সাধু ভাষণ থাকে আর ভেতরে সার্বক্ষণিক অর্থলিপ্সা কাজ করে।

ইসহাক রানার গ্রামের বাড়ি জারইতলা ইউনিয়নের ধারীশ্বর গ্রামে। ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক পাঁচ আগষ্টের ফ্যাসিবাদী আওয়ামীগ সরকারের পতনের পরে কৌশলিক কায়দায় এবং দলীয় প্রভাবে তিনি ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার থেকে ২৭ অক্টোবর প্যানেল চেয়ারম্যান বনে যান। 

প্রভাবশালী পরিবারের এ নেতার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা থেকে শুরু করে চুরি ছিনতাইসহ মাস্তানির অভিযোগেরও তথ্য মিলে। একাধিক সময়ে তিনি মামলার আসামি হয়ে হাজতবাস করেছেন বলেও জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিএনপি নেতা বলেন, ইসহাক রানা প্যানেল চেয়ারম্যান নিযুক্ত হওয়ার পর থেকে এলাকায়, চুরি ছিনতাই, ডাকাতি ও মাদক কারবারির সংখ্যা বহুগুণে বেড়েছে। অপরাধজনীত কর্মকাণ্ডও বেড়ে গেছে। বিশেষ করে পুরো ইউনিয়ন জুড়ে তার সাথে সখ্যতা রয়েছে এমন সব লোকেরাই এসব অপরাধনীত কর্মকাণ্ডে অধিক পরিমাণে জড়িত বলে তিনি মন্তব্য করেন। এছাড়াও তিনি অপরাধীদের কাছে থেকে নানামুখী সুবিধা নিয়ে চলেছেন বলে ইঙ্গিত প্রদান করেন। 

নিকলী উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা বরাবরে, জারইতলা  ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য গিয়াসউদ্দিন তার দেয়া লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, সরকার কর্তৃক গরীব অসহায় গর্ভবতী মহিলাদের গর্ভবতী ভাতা, জনপ্রতিনিধি হিসেবে ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বারদের উপর সনাক্তকরনের দায়িত্ব। কিন্তু পরামর্শ ব্যতীত ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান ইসহাক রানা সঠিকভাবে পালন না করে, ভুয়া/নিয়ম বহির্ভূতভাবে গর্ভবতী ভাতা প্রদান করে চলেছেন। অভিযোগে উল্লেখ উম্মে কুলসুম, স্বামী-রুবেল, গ্রাম- জারইতলা, তিনি আনুমানিক পাঁচ বছর পূর্বে গর্ভবর্তী ভাতাভোগী ছিলেন। তার ৫ বছর পূর্বের গর্ভবর্তী ডাক্তারী রিপোর্ট দেখিয়ে বর্তমানেও চেয়ারম্যান পুনরায় গর্ভবতী ভাতা তাকেই প্রদান করেন। উক্ত ভাতাভোগী মহিলা বর্তমানে গর্ভবতী না বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। অর্থনৈতিক সুবিধা নিতেই কৌশলিক কায়দায় চেয়ারম্যান এমন আরো ৪/৫ জনকে নিয়মবহির্ভূতভাবে নথিভুক্ত করান। এছাড়া আরও ৩/৪ সন্তানের মা’কেও গর্ভবতী ভাতা প্রদান করেন, যাহা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত। এমন ভাতাভোগীদের তালিকার মধ্যে শিখা আক্তার, স্বামী- মুস্তাকিম, গ্রাম- ধারীশ্বর। সাথী আক্তার, স্বামী- ইকবাল, গ্রাম- কামালপুর। সীমা আক্তার, স্বামী-মোঃ রুকন মিয়া, গ্রাম- শাহপুর। রুকিয়া খাতুন, স্বামী-সুমন মিয়া, গ্রাম- শাহপুর। শামসুন্নাহার, স্বামী-আরমান মিয়া, গ্রাম- শাহপুর। শায়লা আক্তার, স্বামী- সালমান, গ্রাম- রোদারপুড্ডা। অনিয়মের এসব ঘটনা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তার তদন্তের মাধ্যমে প্রমান পেয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। তাছাড়া অভিযোগে আরও উল্লেখ রয়েছে অভিযুক্ত ইসহাক রানা প্রভাব কাটিয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান বনে যান এবং নানাবিধ অনিয়মের সাথে জড়িত থাকেন।

জারইতলার ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য গিয়াস উদ্দিন এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, অভিযোগে উল্লেখ্য বিষয়ে শতভাগ প্রমাণ মিলবে। ইসহাক রানা অত্যন্ত ক্রিটিক্যাল এবং স্বার্থান্বেষী  মহলের একজন অন্যতম ব্যক্তি। তিনি স্বার্থের জন্যে দলীয় প্রভাবে যা খুশি তা-ই করে চলেছেন।

প্যানাল চেয়ারম্যান ইসহাক রানার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রসঙ্গে এক কথায় বলেন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দের ২৭ অক্টোবর তিনি প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করলেও কোনো ধরণের অনিয়ম-দুর্নীতির সাথে জড়িত নন বলে দাবি করেন। এছাড়াও ভুয়া প্রেগনেন্ট দেখিয়ে নয় বরং মেডিকেল সার্টিফিকেট ভিক্তিকই গর্ভবতী ভাতা হয়ে থাকে বলে উল্লেখ করেন। প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদানের পরে পুরো ইউনিয়ন জুড়ে অপরাধ বাড়লেও আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে তিনি নিয়মিত তা অবহিত করে চলেছেন বলে উল্লেখ করেন। এছাড়াও অপরাধীদের সাথে তার কোনো ধরণের সখ্যতা নেই বলেও দাবি করেন।

নিকলী উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা রেহেনা মজুমদার মুক্তি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ১১ নভেম্বরের প্যানেল চেয়ারম্যান ইসহাক রানার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগের  সত্যতা স্বীকার করেছেন। যা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে বিস্তর অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে কথা হলে এসব কিছুও তিনি দেখবেন বলে আশ্বস্ত করেন। 

 

 

 

 

 

 

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd