• শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০১:২৪ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও গুলির ঘটনায় সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের নামে মামলা নিকলীতে প্রবীণ আওয়ামীগ নেতা ও সাবেক ৪ বারের চেয়ারম্যান আজমল হোসেন গ্রেফতার  আবহাওয়ার আমূল পরিবর্তনের ফলে হাওরের জীববৈচিত্র্য, মৎস্যসম্পদ ও জনজীবনে চ্যালেঞ্জ      হাওরে প্রবেশদ্বার এলাকায় দস্যুদের তাণ্ডব: শিশুকে হত্যা হুমকিতে লুটে নেয় আড়াই লক্ষাধিক টাকা হাওরাঞ্চলের চামড়া অধিকাংশ মাদ্রাসা ও এতিমখানায় আর অনেকে পুঁতে রাখাসহ নদী ও ডোবানালায় ফেলেছেন নিকলী-বাজিতপুরে বিএনপিতে বিভক্তি, সুবিধা নিচ্ছে আ’লীগ মুষলধারে বৃষ্টিতেও শোলাকিয়ায় ঈদের নামাজীর ঢল ঐতিহ্য, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনজীবনের প্রাণকেন্দ্র বাজিতপুর বাজার বাজিতপুরে যুবকের ওপর হামলার অভিযোগ, মুখে ২৪ সেলাই ‘জাকির ভাই আমাকে জীবন ভিক্ষা-দে’ হত্যার সময়ে কুলিয়ারচরে ব্যবসায়ীর আকুতি, গ্রেফতার-৫ কিশোরগঞ্জে ইপিআই টিকার ঘাটতি, উদ্বেগ বাড়ছে কাঙ্খিত স্বাস্থ্য সেবায়, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে মা ও শিশু 

আবহাওয়ার আমূল পরিবর্তনের ফলে হাওরের জীববৈচিত্র্য, মৎস্যসম্পদ ও জনজীবনে চ্যালেঞ্জ     

Reporter Name / ৯ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

জলের স্থলে ব্যতিক্রমী দৃশ্য: তাপমাত্রা ৩৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস

আলি জামশেদঃ জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবে নিকলী-বাজিতপুরসহ সমগ্র হাওরাঞ্চলের জনজীবনে নেমে এসেছে অস্থিরতা। একদিকে অকাল বন্যা ও অতিবৃষ্টি, অন্যদিকে দীর্ঘ অনাবৃষ্টি, তীব্র তাপপ্রবাহ এবং ঋতুচক্রের অস্বাভাবিক পরিবর্তন হাওরের প্রকৃতি, কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের উপর ফেলছে সুদূরপ্রসারী প্রভাব। জলবায়ু পরিবর্তনের পেছনে মানবসৃষ্ট পরিবেশ ধ্বংসই প্রধান কারণ বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। এর কুপ্রভাব এখন হাওরের মৎস্য, কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও জনজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও পরিবেশ দূষণে বদলে যাচ্ছে হাওরের জলবায়ু। হুমকির মুখে পড়ছে মৎস্যসম্পদ, কৃষি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা। অতিবৃষ্টি যেমন হাওরবাসীর জন্য সর্বনাশ ডেকে আনছে, তেমনি অতিরিক্ত তাপমাত্রা এবং নদ-নদীতে সময়মতো পর্যাপ্ত পানি না থাকায় মাছের প্রজনন আর বংশবিস্তারও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে মৌসুমি সবজি উৎপাদন, কৃষিকাজ এবং সামগ্রিক জনজীবনে। হাওরবাসীর দুঃখ যেন এখন অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি এবং শীত মৌসুমের অস্বাভাবিক ঠান্ডাকে ঘিরেই।কয়েকদিন ধরেই নিকলীসহ হাওরাঞ্চলে তাপমাত্রা উচ্চ পর্যায়ে অবস্থান করছে। নিকলী উপজেলার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, ৩ জুন বিকাল পর্যন্ত এখানকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

জলবায়ু পরিবর্তনের পেছনে মানবসৃষ্ট পরিবেশ ধ্বংসই প্রধান কারণ এর কুপ্রভাব এখন হাওরের মৎস্য, কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও জনজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্পষ্ট হয়ে উঠলেও দেখা মিলেনি সরকার- বেসরকারিভাবে প্রতিকারের উদ্যোগ। নিয়ন্ত্রণ দৃশ্য নেই অপরিকল্পিত ইটভাটা বন্ধের ক্ষেত্রে উদ্যোগ, নেই ব্যাটারি চালিত বিভিন্ন ধরণের গাড়ি বিষয়ে পদক্ষেপ। রাসায়নিক কেমিক্যালের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের প্রতিরোধের পাশাপাশি বৃক্ষ রোপনেও তেমন একটা কার্যকরী পদক্ষেপের দেখা মিলেনি। এছাড়াও অধিকাংশ সময়ে থাকেনা বিদ্যুৎ তখন সেখানকার জনজীবনে অস্থিরতা বিরাজ করে। ভ্যাপসা গরমে শিশুসহ বয়স্করাই ভোগে অধিক পরিমাণে চরম অস্বস্তিতে। অতিবৃষ্টিতে একদিকে হাওরবাসীর সর্বনাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে অপরদিকে অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও সেখানকার নদীর পানি উপযুক্ত সময়ে যথেষ্ট পরিমাণে না থাকায় মাছের প্রজনন ক্ষমতা হারানোর পাশাপাশি বংশবিস্তারেও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। জলবায়ুর এ পরিবর্তনের ফলে প্রভাব পড়ছে জনজীবন এবং মৌসুমী সবজিতেও।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঋতুচক্রের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা ব্যাহত হচ্ছে। আগে যেখানে নির্দিষ্ট সময়ে বৃষ্টি, শীত ও গরম অনুভূত হতো, এখন সেখানে দেখা যাচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী খরা, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, আকস্মিক ঝড় এবং তাপমাত্রার ব্যাপক ওঠানামা। হাওরবেষ্টিত নিকলী উপজেলার ভৌগোলিক অবস্থান দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় কিছুটা ব্যতিক্রমী। বিস্তীর্ণ জলাভূমি, খোলা প্রান্তর এবং তুলনামূলক কম ঘনবসতির কারণে শীতকালে উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিক থেকে আসা ঠান্ডা বাতাস সহজেই প্রবাহিত হতে পারে। এছাড়া রাতের বেলায় খোলা জলরাশি ও বিস্তীর্ণ মাঠ দ্রুত তাপ হারায়। ফলে ভোররাতে কুয়াশা ঘনীভূত হয় এবং তাপমাত্রা আরও নিচে নেমে যায়। এ কারণে নিকলী ও আশপাশের হাওরাঞ্চলে শীতের তীব্রতা অনেক সময় দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় বেশি অনুভূত হয়।

বিপরীতে গরমকালে কেন ভ্যাপসা গরম অনুভব হয় এবং জবাবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, গ্রীষ্মকালে হাওরের বিশাল জলরাশি থেকে প্রচুর জলীয়বাষ্প বাতাসে মিশে যায়। ফলে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়ে যায়। যখন তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা একসঙ্গে বৃদ্ধি পায়। এমন পরিস্থিতিতে মানুষের শরীর ঘামের মাধ্যমে তাপ বের করতে পারে না। এতে প্রকৃত তাপমাত্রা ৩৪ বা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলেও অনুভূত তাপমাত্রা আরও কয়েক ডিগ্রি বেশি মনে হয়। তাছাড়াও, বনাঞ্চল হ্রাস, অপরিকল্পিত নির্মাণ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাস বৃদ্ধিও এই ভ্যাপসা গরম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

হাওরাঞ্চলের অধিকাংশ দেশীয় মাছ বর্ষা মৌসুমে ডিম ছাড়ে। সময়মতো বৃষ্টি ও উপযুক্ত তাপমাত্রা মাছের প্রজননের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বর্তমানে তার ব্যতিক্রমী দৃশ্যের দেখা মিলছে। নদী মুখে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি পানির পরিমাণও তুলনামূলক অনেকটা কম। অনিয়ন্ত্রিতভাবে মাছ ধরার সুযোগে ইজারাদার কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সাইজের মাছ ধরার সুযোগ নিচ্ছে ইচ্ছে মতো। প্রবাহমান ঘোড়াউত্রার আশেপাশের বিল ও খালে যে পরিমাণ পানি থাকার কথা ছিলো এই সময়ে প্রকৃতপক্ষে তেমনটি না থাকায় মাছের প্রজনন ক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কাঙ্খিত পরিমাণ পানি নি থাকার কারণে রোদে পানির উপরের অংশ গরম হয়ে যায় অতি সহজে। অল্প পানি যেখানে সেখানে মাছ মরে যাওয়ার উপক্রম দেখা দেয়। ডিম নষ্ট হয়ে যায়। মূলত অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, আকস্মিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং জলস্তরের অস্বাভাবিক ওঠানামার কারণে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। অনুসন্ধানী দৃষ্টিতে উঠে আসে মা মাছের ডিম ছাড়ার সময়সূচি পরিবর্তিত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ডিম ও পোনার পর্যাপ্ত পরিবেশ না পেয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র সংকুচিত হচ্ছে। দেশীয় প্রজাতির মাছের সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। সেক্ষেত্রে মৎস্য বিশেষজ্ঞদের অভিমত, হাওরের জলজ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রজনন মৌসুমে অভয়াশ্রম সংরক্ষণ, অবৈধ জাল ব্যবহার বন্ধ এবং জলাধারের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা খুবই জরুরি।

মৌসুমে সবজিতে ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে হাওরাঞ্চলের নিকলী-বাজিতপুরসহ আশেপাশে ব্যাপক আকারে। কৃষকদের উদ্বেগ বাড়ছে। অতি বৃষ্টির কারণে যেমননি মৌসুমী সবজিতে পচন ধরেছে বিপরীতে অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও রোদের কারণে গাছসহ ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। জনজীবনেও আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের কারণে ব্যাপক প্রভাব পড়ছে। অতিরিক্ত গরমের ফলে স্থানীয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, তুলনামূলক রোগীর সংখ্যা গরমের কারণেই বেড়েছে। সেক্ষেত্রে অতিরিক্ত গরমেও শিশুরা ঠান্ডায় ভোগে অনেকে। এছাড়াও ডায়রিয়া ও আমাশয় জনীত রোগীর সংখ্যা বেশি। অকাল বৃষ্টি, দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ কিংবা আকস্মিক ঝড় ফসল উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অন্যদিকে শ্রমজীবী মানুষ, জেলে, কৃষক ও দিনমজুররা অতিরিক্ত গরমে স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছেন। বাড়ছে হিট স্ট্রোক, পানিশূন্যতা ও বিভিন্ন তাপজনিত রোগের আশঙ্কা। শীতকালেও আবার শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপও এসব এলাকায় বেড়ে যায়।

পরিবেশবিদদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে বৃক্ষরোপণ বৃদ্ধি, হাওরের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, জলাশয় রক্ষা, পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। তাঁরা আরও মনে করেন, হাওরাঞ্চল বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। তাই এই অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে মৎস্যসম্পদ, কৃষি উৎপাদন এবং জনজীবন আরও বড় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

নিকলী উপজেলার সাহাপুর হাওরের বিন্দু প্রজাতির মরিচ চাষী রুছমত আলী জানান, চলতি মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে বোরো ধানের ক্ষতির পাশাপাশি বিন্দু মরিচের ৪০ শতাংশ জমিও নষ্ট হয়ে গেছে। এখন আবার প্রচন্ড খরা নদীতে যথাসময়ে পানি নাই মাছ ধরার সুযোগও।

নিকলী উপজেলার সাজনপুর আঠার বাড়ীয়া এলাকার সবজি চাষী ও মৌসুমী জেলে ধনু মিয়া বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টি আর অতিরিক্ত রোদ দুটোই এই এলাকার ফসলের ক্ষতি করে চলছে। এভাবে অনাবৃষ্টি দীর্ঘদিন থাকলে এই এলাকায় মাছ পাওয়া যাবে না। খালে বিলে পানির কম থাকায় মাছ নেই । এছাড়াও নদীর মুখে জাল দিয়ে ছোট ছোট মাছ ধরে অসময়ে বংশ বিস্তার নষ্ট করে দিচ্ছে বলেও তিনি দাবি তোলেন।

বাজিতপুর উপজেলার শশের দীঘির কৃষক হারুন অর রশিদ জানান, অতিরিক্ত গরমের কারণে হাওরে গবাদি পশু নিয়েও ঠিকে থাকা যাচ্ছে না। হাওরে পানি পর্যন্ত গরম হয়ে যায়। গবাদি পশুকেও সেখানে গোসল করানো যাচ্ছে না। গরমের কারণে শিশুসহ তার নিজের শরিরও অসুস্থ বলে উল্লেখ করেন।

নিকলী উপজেলার জারইতলা কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি আব্দুস ছোবান বলেন, অতিরিক্ত গরমের কারণে ডায়রিয়া ও আমাশয় রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক কিছুটা বেড়েছে।

নিকলী উপজেলা আবহাওয়া অফিসের প্রথম শ্রেণীর সিনিয়র অবজারভার আক্তার ফারুক জানান, কয়েক দিন ধরেই হাওরাঞ্চলের এই নিকলীতে তাপমাত্রা অতিরিক্ত। ৩ জুন বিকাল পর্যন্ত ৩৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার বিষয়টি তিনি প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেন।

কিশোরগঞ্জের জেলার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মমিন ভূঁইয়ার কাছে পরিবেশ বিপর্যয় থেকে শুরু করে হাওরাঞ্চলের সামগ্রীক চিত্র তুলে ধরার জবাবে এক কথায় –সব কিছুর সামগ্রীক কুপ্রভাব পড়ছে মূলত জলবায়ুর উপর বলে উল্লেখ করেন। জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে শুধু মৎস্য, কৃষিতে নয় বরং জীববৈচিত্র্যের পরিবর্তনের পাশাপাশি জনজীবনেও এর প্রভাব ফেলছে বলে জানান।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিনের সাথে জলবায়ুর এই পরিবর্তন নিয়ে কথা হলে তাঁর বক্তব্যের মধ্যে দিয়েই উঠে আসে গ্রীন এফেক্টের বিষয় থেকে শুরু করে হাওরাঞ্চলের গাছপালা কম থাকার পাশাপাশি অপরিকল্পিত ইটভাটা ও কলকারখানা কালো ধোঁয়া, ইঞ্জিন ও ব্যাটারি চালিত গাড়ির ব্যবহার, তাছাড়াও সহজে বিনষ্ট হয় না এমন ধরণের রাসায়নিক কেমিক্যালের ব্যবহারসহ নানা ক্ষতিকারক দিকের বিষয়। এসবের কারণেই মূলত জলবায়ুর উপর প্রভাব ফেলছে বলেও তিনি স্বীকার করেন। এছাড় এ সবের কুপ্রভাব পড়ছে জনজীবন থেকে শুরু করে মৎস সম্পদ ও কৃষিক্ষেত্রে এমন কঠিন বাস্তবতার কথা উল্লেখ করেন। পরিবেশের দিক বিবেচনায় নানামুখী উদ্যোগ নেয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রকৃতির ভাষা বদলে যাচ্ছে। নিকলীর হাওর আজও সৌন্দর্যের আধার হলেও জলবায়ুর পরিবর্তন সেই সৌন্দর্যের ভেতরে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে। শীতের কনকনে ঠান্ডা আর গ্রীষ্মের অসহনীয় ভ্যাপসা গরম কেবল আবহাওয়ার বৈশিষ্ট্য নয়, বরং পরিবর্তিত জলবায়ুর স্পষ্ট বার্তা। এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে বলেও ইঙ্গিত প্রদান করেন বিশেষজ্ঞরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd