• শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০১:২৯ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও গুলির ঘটনায় সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের নামে মামলা নিকলীতে প্রবীণ আওয়ামীগ নেতা ও সাবেক ৪ বারের চেয়ারম্যান আজমল হোসেন গ্রেফতার  আবহাওয়ার আমূল পরিবর্তনের ফলে হাওরের জীববৈচিত্র্য, মৎস্যসম্পদ ও জনজীবনে চ্যালেঞ্জ      হাওরে প্রবেশদ্বার এলাকায় দস্যুদের তাণ্ডব: শিশুকে হত্যা হুমকিতে লুটে নেয় আড়াই লক্ষাধিক টাকা হাওরাঞ্চলের চামড়া অধিকাংশ মাদ্রাসা ও এতিমখানায় আর অনেকে পুঁতে রাখাসহ নদী ও ডোবানালায় ফেলেছেন নিকলী-বাজিতপুরে বিএনপিতে বিভক্তি, সুবিধা নিচ্ছে আ’লীগ মুষলধারে বৃষ্টিতেও শোলাকিয়ায় ঈদের নামাজীর ঢল ঐতিহ্য, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনজীবনের প্রাণকেন্দ্র বাজিতপুর বাজার বাজিতপুরে যুবকের ওপর হামলার অভিযোগ, মুখে ২৪ সেলাই ‘জাকির ভাই আমাকে জীবন ভিক্ষা-দে’ হত্যার সময়ে কুলিয়ারচরে ব্যবসায়ীর আকুতি, গ্রেফতার-৫ কিশোরগঞ্জে ইপিআই টিকার ঘাটতি, উদ্বেগ বাড়ছে কাঙ্খিত স্বাস্থ্য সেবায়, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে মা ও শিশু 

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়ায় সন্ত্রাসী হামলার ৯ বছর

Reporter Name / ৭৯৭ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৮ জুলাই, ২০২৫

আহসানুল হক জুয়েল, নিকলী (কিশোরগঞ্জ) থেকেঃ কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া মাঠের পার্শ্বে সন্ত্রাসী জঙ্গি হামলার গতকাল সোমবার( ৭ জুলাই) নয় বছর চলছে। সেদিনের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় করা মামলায় বিচার প্রক্রিয়ায় ধীরগতির কথা বলছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

জানা গেছে ২০১৬ সালের (০৭ জুলাই) ঐতিহ্যবাহী ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহে ঈদের নামাজ শুরুর আগ মুহূর্তে মাঠের কাছে পুলিশের একটি নিরাপত্তা চৌকিতে অতর্কিত হামলা চালায় জঙ্গি সন্ত্রাসীরা। সন্ত্রাসী জঙ্গিদের গুলি আর বোমায় কেঁপে উঠে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগা মাঠের উত্তর-পশ্চিমের এলাকা। এ ঘটনায় মাঠের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দুই পুলিশ সদস্য, একজন গৃহবধূ ও দুই হামলাকারী সন্ত্রাসী জঙ্গি নিহত হয়।

হামলায় জহিরুল ইসলাম ও আনছারুল হক নামে পুলিশের দুই সদস্য নিহত ও আট সদস্য আহত হন। পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ঘটনাস্থলে নিহত হন আবির রহমান নামে এক হামলাকারী। ঘটনাস্থলের পাশেই নিজ বাড়িতে রান্নার কাজে ব্যস্ত গৃহবধূ ঝর্ণা রাণী ভৌমিক পুলিশ সন্ত্রাসী গুলি বিনিময় সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। শফিউল ইসলাম নামে আরেক হামলাকারী গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পুলিশের হাতে আটক হন। পরদিন রাতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা দিয়ে কিশোরগঞ্জে আনার পথে নান্দাইলের বড়াইগ্রামে ওঁৎপেতে থাকা সন্ত্রাসীরা শফিউলকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন শফিউল ইসলাম।

হামলার ঘটনায় পাকুন্দিয়া থানার তৎকালীন ওসি মো. সামসুদ্দিন বাদী হয়ে ২৪ জনকে আসামি করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। আসামিদের মধ্যে ১৯ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে বিভিন্ন সময় বন্দুকযুদ্ধে মারা যান। ২০১৮ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পাঁচ জীবিত আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।

বর্তমানে বিচারাধীন পাঁচ আসামি হলেন- কিশোরগঞ্জের জাহিদুল হক তানিম, গাইবান্ধার জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী, কুষ্টিয়ার সোহেল মাহফুজ, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ‘বড় মিজান’ ও গাইবান্ধার আনোয়ার হোসেন। এর মধ্যে তিনজনকে গেল বছরের ৫ অগাস্টের পর জামিন দিয়েছে আদালত। এত বছর পরও শোক কাটেনি ঘটনার শিকার হওয়া মানুষগুলোর পরিবারে। ভয়াবহ এ হামলা মামলার বিচার কার্যক্রমে ধীরগতি চলছে বলে অভিযোগ স্বজনদের।

নিহত গৃহবধূ ঝর্ণা রাণীর ছেলে বাসুদেব ভৌমিক বলেন, ‘প্রতিবছর এই দিনে মায়ের কথা খুব মনে পড়ে। এখনো আমার ছোট ভাই ভয়ে রাতে আতকে ওঠে। বাবার ইচ্ছা ছিল মৃত্যুর আগে বিচার দেখে যাওয়া। কিন্তু বিচার কাজে ধীরগতি দেখা দেওয়ায় তা বুঝি আর সম্ভব হল না। দ্রুত বিচার শেষ হোক, এটাই আমাদের একমাত্র দাবি।’

মামলায় ১০১ সাক্ষীর মধ্যে ৭৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে জানিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. জালাল উদ্দিন বলেন, ‘এখন ম্যাজিস্ট্রেট, চিকিৎসক ও তদন্ত কর্মকর্তাদের সাক্ষ্য নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। আগামী ১৮ অগাস্ট মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে।’

আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণের জন্য যথেষ্ট উপাদান দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য মামলাটি পরিচালনা করছি। তবে সাক্ষিদের সময়মত আদালতে হাজির করা না যাওয়ায় বিচারকাজ দীর্ঘায়িত হচ্ছে।’

কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ‘দিবসটি উপলক্ষে সোমবার পুলিশ সুপার কার্যালয়ের হলরুমে নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা ও সম্মাননা জানানো হয়েছে। এছাড়া নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd