বিশেষ প্রতিনিধিঃ কিশোরগঞ্জের নিকলীতে নির্বাচন পরবর্তীতে একদিকে জামায়াত ইসলামীর আমিরের আগমন। অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী পক্ষ ও তাঁর সমর্থকের বিরুদ্ধে হামলা ও নির্বাচন পরবর্তীতে সহিংসতার বিষয়ে অভিযোগ। নির্বাচনকে প্রভাবিত করা হয়েছে মর্মে বিএনপি প্রার্থী ও তাঁর সমর্থকেরা নানাবিধ অভিযোগ তুলেছেন। সমাবেশের মধ্যে দিয়ে নির্বাচন পরবর্তী দিনে অনিয়ম দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে সমাবেশ ও বিক্ষোভ করেছেন স্বতন্ত্র হাঁস প্রতীকে বিজয়ী প্রার্থী ও তাঁর সমর্থকের বিরুদ্ধে।
কিশোরগঞ্জ -৫ আসনের জামায়াত ইসলামীর জেলা আমির ও কেন্দ্রীয় কমিটির সুরা সদস্য দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক রমজান আলী। তাঁর সমর্থনের লক্ষ্যে গত ফেব্রুয়ারির ৩ তারিখে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর আমির ডা.শফিকুর রহমানের আগমন ঘটে কটিয়াদী কলেজ মাঠে। সেই নির্বাচনী মিটিংয়ে অংশ নেন অসংখ্য নেতাকর্মীদের সাথে ছাতিরচরের সালাম (৬০) নামের এক জামায়াত কর্মী। সমাবেশ শেষে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময়ে কিশোরগঞ্জ টু ঢাকাগামী একটি চলন্ত বাসের সাথে ধাক্কা লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে ঢাকা নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে রওয়ানা দেন। এক পর্যায়ে রাস্তায় মৃত্যুর হয়। পরদিন ৪ তারিখে জানাযায় অংশ নেন নিকলী-বাজিতপুর আসনের প্রার্থী রমজান আলীসহ একাধিক জেলা ও উপজেলার দলীয় নেতাকর্মীসহ অসংখ্য স্থানীয় লোকেরা। ডা. শফিকুর রহমান জামায়াত কর্মীর মৃত্যুর খবরে তাৎক্ষণিক শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনাও প্রকাশ করেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই নিকলীর জাতিরচরেও আসেন ১৫ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১ টার দিকে। মরহুমের পরিবারকে দেখার পাশাপাশি সেই সময়ে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনার লক্ষ্যে সলামের সমাধিস্থলেও বিশেষ দোয়া প্রার্থনা করেন। এমনকি নিহতের পরিবারকে নগদ অর্থ প্রদানের পাশাপাশি সেই সময়ে পরিবারের দায়িত্ব পালনের কথাও ব্যক্ত করেন।
একই দিনে কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার শিমুলবাগ গ্রামের বড়িবাড়ি ইউনিয়নের শাহ আলম ভূঁইয়া (৫০) নামের এক সক্রিয় জামায়াত কর্মীর বাড়িতেও সকালে উপস্থিত হন ডা. শফিকুর রহমান। জানা গেছে, শাহ আলম গত ৮ তারিখে স্থানীয় এক নির্বাচনী জনসভায় যাওয়ার পথে নৌকায় স্টোক করে মারা যান। উল্লেখ্য ৮ ফেব্রুয়ারি বাজিতপুরের ঐতিহাসিক ডাকবাংলা মাঠে সেদিন কেন্দ্রীয় ছাত্র শিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম ও ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমও নির্বাচনী প্রচারণায় আসেন। ডা. শফিকুর রহমান সেই মরহুমের পরিবারের প্রতিও গভীর সমবেদনাও প্রকাশ করেন। এ সময়ে তার রুহের মাগফিরাতও কামনা করেন। পাশাপাশি পরিবারটিকে অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি দায়িত্ব পালনের কথাও ব্যক্ত করেন।
অপরদিকে কিশোরগঞ্জ -৫ (নিকলী-বাজিতপুর) আসনে ১২ তারিখের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকাল আনুমানিক ৪ টার দিকে বাজিতপুর বাজারের বাঁশ মহল এলাকায়। ঐতিহাসিক বাঁশ মহলের এ সমাবেশের দিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশাপাশি প্রার্থী পক্ষ নিজেই সুনির্দিষ্টভাবে যুক্তি তুলে ধরে অভিযোগ তুলেছেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বক্তব্যের এক ফাঁকে বলতে শোনা আমেরিকার সিনেটের হিসেবে থাকা প্রার্থীর ভাই শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন কিভাবে পুলিশের প্রটোকলে কেন্দ্রে প্রবেশ করেন? নির্বাচনকে প্রভাবিত করার লক্ষ্যেই আমেরিকার সিনেটরের আগমন বলেও অভিযোগ স্থানীয় নেতাকর্মীদের। সেই সময়ে প্রার্থীর ছবিসহ ব্যানারও ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন। এছাড়াও বাঁশ মহলের কাছাকাছি স্থানে বিএনপির দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠে। তবে বিপরীতে উল্টো অভিযোগও করতেও দেখা গেছে ইকবাল সমর্থকদের।
কিশোরগঞ্জ -৫ আসনের ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবালের মোট ভোটের সংখ্যা ৭৯ হাজার ৬০৪টি আর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের ৬৬ হাজার ৪৫০টি। এছাড়াও তৃতীয় অবস্থানে থাকা জামায়াত ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী রমজান পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৪০০ ভোট।
ডা. শফিকুর রহমানের আগমনের বিষয়ে গতকাল বিকালে জামায়াত ইসলামীর জেলা আমির অধ্যাপক রমজান আলীর সাথে কথা হলে তিনি ডা.শফিকুর রহমানের আগমনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নির্বাচন পরবর্তীতে বাজিতপুর থানায় সুনির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে কি-না এমন জবাবের লক্ষ্যে ওসি এসএম শহিদুল্লাহকে প্রশ্ন করা হলে উত্তরে একাধিক অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেন। এমনকি বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান। পাশাপাশি একাধিক অভিযোগ আমলে নেয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন।