নিজেস্ব প্রতিবেদনঃ নিকলীতে ফ্যাসিবাদী সেই যুবলীগ নেতা আবারও আলোচনায় এসেছে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার মধ্যে দিয়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উস্কানিমূলক আচরণে লিপ্ত থাকার স্থিরচিত্র এবং ভিডিও একের পর এক নিজের ফেইসবুকে শেয়ার দিয়েও অশান্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি করে চলেছেন। প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব হচ্ছে বলেও স্থানীয়দের দাবি। তার বিরুদ্ধে আইনি তৎপরতাও কামনা করেন শান্তিপ্রিয় জনগণ।
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার জারইতলা ইউনিয়নের রোদার পুড্ডার মুক্তিযোদ্ধা মরহুম নুরুজ্জামান ওরফে জামান মিয়ার ছেলে কনিষ্ঠ সন্তান মনিরুজ্জামান তরুণ। তরুণ কেন্দ্রীয় যুবলীগের একজন সদস্য। গত ১০ নভেম্বর, সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে ‘অবৈধ ট্রাইবুনাল মানি না, মানবো না’ শেখ হাসিনার কিছু হলে জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে। এমন সরকার বিরোধী স্লোগানের একটি ভিডিও আপলোড দেন তিনি। কিশোরগঞ্জের যুবলীগ নামীয় ব্যানারে রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে কিশোরগঞ্জ উল্লেখ করে একটি স্লোগান ধরতে দেখা গেছে বেশ কিছু যুবকে। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। বিষয়টি নয়া দিগন্ত পত্রিকায় পরদিন প্রকাশিত হয়।
এবার নতুন করে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থেকে দেশ-বিদেশে তা জানান দিতেই তিনি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক একাউন্টে জারইতলা উচ্চবিদ্যালয় এবং ভূমি অফিসে তালাবদ্ধ করে রেখেছেন। লকডাউন লেখা মর্মে। পোষ্ট পরবর্তী পর্যায়ে সকাল ১১ টার দিকে মনিরুজ্জামান মনিরের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
জারইতলা স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক ও আওয়ামীলীগ নেতা বেলায়েত হোসেন বাদল এক প্রশ্নের জবাবে প্রথমে তালাবদ্ধ করে রাখার বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করেন। এক পর্যায়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তরুণ নিজেই পোষ্ট করেছেন আপনি তথ্য গোপন করছেন কেনো? এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ আসার পরে তিনি ঘটনাটি জানতে পেরেছেন বলে উল্লেখ করেন। এছাড়াও নিজেও ফ্যাসিবাদী আওয়ামীগের নেতা আর বিদ্যালয়ের নানামুখী অপরাধে জড়িত, এমন গুঞ্জন আপনাকে ঘিরে। এতদ্বসত্ত্বেও বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে কৌশলিক কায়দায় বহাল তবিয়তেই আছেন। তাছাড়াও অপর সমমনা ফ্যাসিবাদী নেতাকে বাঁচানোর চেষ্টায় তথ্য গোপন করে চলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে? এমন কথা বলা হলে তিনি অনেকখানিই চুপসে যান।
জারইতলা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা হবি আহমেদ বুলবুল জানান, ঘটনাটি তিনিও শুনেছেন। তবে ঘটনাস্থলে এসে তালাবদ্ধ পাননি। হয়তো তার আগমনের পূর্বে ছবি বা ভিডিও করার লক্ষ্যে এমনটি করা হয়ে থাকতে পারে। তবে তিনি স্বীকার করেন লকডাউন লেখা ছোট ব্যানারের ন্যায় সেখানে কাগজে লেখা আলামত গেইটের কাছে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেছেন তার কর্মচারী দিদার।
নিকলী থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী আরিফ উদ্দিন জানান, এই ঘটনার খবর পেয়ে দুপুরে ঘটনাস্থলে ফোর্স নিয়ে গেলেও সেখানে কিছু পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে তরুণকে খোঁজাখুঁজি করা হচ্ছে। আশা করি অচিরেই আইনের আওতায় আনা হবে।
নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনা মজুমদার মুক্তির সাথে এই বিষয়ে কথা হলে ঘটনায় তিনি পূর্বে অবগত ছিলেন না বলে উল্লেখ করেন। এছাড়াও এ ধরণের ঘটনায় কেউ যদি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে তাহলে ব্যবস্থা নিবেন বলেও জানান।
কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী (বিপিএম) কে বিকালে একাধিকবার ফোন করা হলেও পাওয়া যায়নি।