বিশেষ প্রতিনিধিঃ কিশোরগঞ্জ -৫ আসনে বিএনপির বহিস্কৃত নেতাকর্মীদের সারি দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে। নির্বাচন কেন্দ্রিক দুই ধাপে এ পর্যন্ত একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ ৩১ জনকে বহিস্কার করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ -৫ আসনে বহিস্কারের লাইন প্রয়োজনে আরও দীর্ঘ হতে পারে বলেও দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে আলোচনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বহিস্কৃতের দাবি সতন্ত্রের জয় ঠেকাতেই এসব পরিকল্পনা। তবে স্থানীয় বিএনপির ও সাধারণ ভোটারদের অভিমত বহিস্কারের মধ্যে দিয়েই ধানের শীষের জয়ের সম্ভাবনা স্পষ্ট হতে চলেছে। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ধানের শীষের পক্ষে তরুণ ভোটারের সংখ্যাও। আসনটিতে দাড়িপাল্লার জয়ের ক্ষেত্রে অনেকাংশে পথের কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে হাত পাখা। তবুও নিরব ভোটে জয়ের স্বপ্ন দেখছেন দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ও তাঁর কর্মী সমর্থকেরা। এ আসনে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ৮ জন আর ৮টি প্রতীকের মধ্যে যথাক্রমে ধানের শীষ, দাড়িপাল্লায়, হাঁস, হরিণ, হাত-পাখা, লাঙ্গল, মোমবাতি ও হারিকেন রয়েছে। এদের মধ্যে ভোট যুদ্ধ হবে প্রধানত ধানের শীষ, দাড়িপাল্লা ও হাঁস প্রতীক ঘিরেই। এমনি তথ্য উঠে আসে সেখানকার স্থানীয় ভোটারদের কাছ থেকে।
কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের ধানের শীষ প্রতীক প্রার্থীকে ঘিরে জয়ের সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ বলে জানান বিএনপির সমর্থকরা। যতই দিন এগুচ্ছে ধানের শীষের প্রতীকের প্রার্থীর জনমত ততটাই বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যান্য প্রার্থী পক্ষের লোকেরাও ধানের শীষের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে। তারেক রহমানের পরিকল্পনাকে (প্লান) বাস্তবায়ন করতে এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতেই বিএনপির প্রতি ঝুঁকছে তরুণ ভোটারেরা। নিয়মের মধ্যে দিয়ে সকল প্রকারের নির্বাচনী প্রচার প্রচারণার সেই বাস্তবতা জানান দিচ্ছে। তবে স্বতন্ত্র এক প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে টাকার ছড়াছড়ির বিষয়ে। ভিডিওতেও ইঙ্গিত দিচ্ছে। গুঞ্জন উঠেছে অনেকের বিবেকও টাকার কাছে জিন্মি হচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত বিবেকের তাড়নায় সতন্ত্র প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা নিলেও এই এলাকার উন্নয়ন ও পারিপার্শ্বিক স্বস্তির দিক বিবেচনায় ধানের শীষের পক্ষেই ভোট কেন্দ্রে ভোট দিবেন বলেও অভিমত ধানের শীষের প্রার্থী ও তার পক্ষের লোকদের।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ও সময় যতই এগুচ্ছে নির্বাচনী ভোটের মাঠ ততই সরগরম হচ্ছে। চায়ের স্টলে হাটে-বাজারে মাঠে- ঘাটে এমনকি সর্বত্রই ধানের শীষের প্রতীক ঘিরে আলোচনায় তোলপাড়। জয়ের সম্ভাবনার বিষয়েও শতভাগ ইঙ্গিত মিলছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারেরা বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদাকে অধিকতর পছন্দনীয় প্রার্থী বলে যুক্তি তুলে ধরছেন। সরেজমিনে ক্লীন ইমেজের পরিচয়ও তাঁর মাঝে পরিলক্ষিত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তরুণ ভোটারেরা। অন্যান্য দলীয় প্রার্থীর ভোটারের সংখ্যা দিন দিন কমছে আর ইঙ্গিত মিলেছে ধানের শীষ প্রতীক ঘিরে বিজয়ের। এ প্রার্থীকে ঘিরে সাধারণ ভোটারদের দাবি নানান দিক থেকেই রাজনৈতিকভাবে যোগ্য নেতৃত্বের অধিকারী। তাঁর কাছে দলমত নির্বিশেষে জনগণ নিরাপদ বলেও নিরব ভোটারেরা তাদের পৃথক পৃথক যুক্তি তুলে ধরেন।
এছাড়াও কিশোরগঞ্জের ভৈরবে গত ২২ জানুয়ারি রাতের পদযাত্রা ও পথসভার মধ্যে দিয়েই বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমন ঘটে। এরপর থেকে স্থানীয় ভোটের মাঠের পরিবর্তন অনেকাংশে পরিলক্ষিত হচ্ছে বলে জানান সেখানকার ভোটারেরা। ব্যাপকভাবে এর সাড়া মিলছে উঠুন বৈঠকেও। বিশেষ করে নারী ভোটারদের ক্ষেত্রেও জানান দিচ্ছে সৈয়দ এহসানুল হুদার কাছেই দলমত নির্বিশেষে সকলেই নিরাপদ।
কিশোরগঞ্জ -৫, (নিকলী-বাজিতপুর) আসনটি জেলার গুরুত্বপূর্ণ একটি আসন। এ আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৩ লক্ষ ৫৩ হাজার ৫৬৬ জন। এরি মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১ লক্ষ ৮২ হাজার ৪৫২ জন। নারী ভোটারের সংখ্যা ১ লক্ষ ৭১ হাজার ১০৮জন। বাকী ৬ জন হিজরা ভোটার। তন্মধ্যে নিকলীতে নিকলীতে ভোটারের সংখ্যা ১ লক্ষ ২৮ হাজার ৫৯ জন। তবে নিকলীতে পোষ্ঠাল, আইসিভি, ওসিভিসহ ১২শ’ ৩০টি ভোট রয়েছে। বাজিতপুরের ক্ষেত্রেও সেই অনুপাতে আইসিভি, ওসিভি, পোষ্টাল ভোটারদের কথা জানা গেছে স্থানীয় নির্বাচনী অফিস সূত্রে।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে স্বাধীনতা পরবর্তী এ আসনটিতে অধিকাংশ সময়েই বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকে। যে কারণে এটি বিএনপির দূর্গ বলেই পরিচিত। ফ্যাসিবাদী কৌশল ছাড়াও এ আসনটি বিএনপির বলেই প্রতীয়মান হয়। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এবারও বিএনপির জয়ের প্রায় শতভাগ সম্ভবনা। তবে এই পর্যন্ত জয়ের মুখ দেখেননি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলসহ কোনো ধরণের সতন্ত্র প্রার্থীরা। শুরুর দিকে দিকে জামায়তে ইসলামীর প্রতিদ্বন্দ্বীতার কথা উঠে আসলেও দিন শেষে পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইসলামী আন্দোলনের নিকলী উপজেলার বাসিন্দা হাত-পাখা প্রতীকের প্রার্থী। যে কারণে স্পষ্ট হতে চলেছে বিএনপির বিজয়ের সম্ভাবনার দ্বার। এছাড়াও সরেজমিনে উঠে আসছে বিএনপির দলীয় নির্দেশ অমান্যের কারণে দলীয় গঠনতান্ত্রিক নিয়মের মধ্যে দিয়েই বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে এ পর্যন্ত বহিষ্কার করা হয়েছে ৩১ জনকে। মূলত দলীয় সিদ্ধান্তের বিরোধিতার কারণে তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে বলেই জানা গেছে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী স্বাক্ষরিত ২৬ জানুয়ারি নিকলী-বাজিতপুরে পদধারী ১৮ জন এবং পরবর্তীতে একই নিয়মে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে আরও ১৩ জন নেতাকর্মীকে বহিস্কারের মধ্যে দিয়েই ধানের শীষের বিজয়ের পথ অনেকাংশে প্রশস্ত করে নিয়েছে বলে সরেজমিনে আলোচনা রয়েছে। দোদুল্যমান অবস্থানে থাকাদের অনেককেই শেষ পর্যন্ত ধানের পক্ষে অবস্থান নিতে দেখা গেছে। তবে সরেজমিনে নানামুখী হুমকি ধামকির কথাও উঠে আসে। এ ক্ষেত্রে প্রাথী পক্ষও অবগত রয়েছে বলে জানান এই বিষয়ে।
তাছাড়া দেশকে এগিয়ে নিতে আর স্থানীয় উন্নয়নের দিক বিবেচনায় বিএনপির বিকল্প নেই বলেও উল্লেখ করেন সেখানকার অধিকাংশ ভোটারেরা। যে কারণে উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতে আর তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতেই নিকলী-বাজিতপুরের সচেতন ভোটারেরা এবার সক্রিয় হয়েছেন ধানের শীষের পক্ষে। এমনকি সাধারণ ভোটারদের মাঝেও বিএনপির সক্রিয় কর্মীরা সেই বাস্তবতা তুলে ধরে চলেছেন ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে দিবানিশি।
নিকলীর সাজনপুর ৪নং ওয়ার্ডের নারী ভোটার সেলিনা আক্তারের ন্যায় অসংখ্য নারীদের সাথে কথা হলে তারা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে আর তারেক রহমানের পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করতে হলে ধানের শীষ প্রতীকের বিকল্প নাই। এছাড়াও তাই নিকলী বাজিতপুরের উন্নয়নের লক্ষ্যে ধানের শীষের বিকল্প নেই বলে উল্লেখ করেন।
নিকলীর আঠার বাড়িয়ার খেটে খাওয়া শ্রেমিক রুবেল ও ক্ষুদ্র কৃষক রুছমত আলী ও ভ্রাম্যমান হকার ইব্রাহিমের ন্যায় নির্বাচনী আসনের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার অসংখ্য লোকদের সাথে কথা হলে তারা স্বস্তি ও উন্নয়নের লক্ষ্যে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদার ধানের শীষের পক্ষে ভোটের যুক্তি তুলে ধরেন এবং বিজয়ের সম্ভাবনার কথাও বলেন।
কিশোরগঞ্জ -৫ আসনের বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে অংশগ্রহণকারী এবং সাবেক ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের জিএস মুহাম্মদ এবং জেলা বিএনপির একাধিকবারের সদস্য বাজিতপুরের বাসিন্দা মুহাম্মদ বদরুল আলম শিবু বলেন, অত্র আসনটি বিএনপির একটি শক্তিশালী ঘাঁটি। ফ্যাসিবাদী কৌশল ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে অধিকাংশ সব সময়ই বিএনপি জয়লাভ করেছে। সেক্ষেত্রে এবারও সেই ধারাবাহিকতার ব্যতিক্রম হবে না।
বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক দুইবারের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মরহুম মজিবুর রহমান মঞ্জুর সুযোগ্য সন্তান বাজিতপুর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও মনোনয়ন দৌড়ে অংশগ্রহণকারী মোস্তাফিজুর রহমান মামুন জানান, বিএনপির বিজয় নিশ্চিত করতে তার পক্ষে যা করণীয় তাই তিনি করে চলেছেন। এমনকি নিশ্চিত বিজয়ের ইঙ্গিতও প্রদান করেন।
নিকলী উপজেলা বিএনপির সাবেক তিনবারের সংসদ সদস্য মরহুম আমির উদ্দিনের সুযোগ্য সন্তান বদরুল মোমেন মিঠু বলেন, বিএনপির নিঃসন্দেহে একটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থানকারী গনতান্ত্রিক দল। অন্যান্য দলের তুলনা করা চলে না। এই দলে তরুণ ভোটারেরা ঝুঁকছে দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভবিষ্যত প্লানকে সফল করার লক্ষ্যে। এমনকি তিনি মনোনয়ন বঞ্চিত হলেও ধানের বিজয় ফেরাতে সকলকেই উদাত্ত আহ্বান জানান। কিশোরগঞ্জ -৫, আসনটি ফ্যাসিবাদী কৌশলের বাহিরের প্রায় সকল প্রকারের নির্বাচনের মধ্য দিয়েই বিএনপির অধীনে ছিলো বলেও উল্লেখ করেন। এবারও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তাই হবে বলে জানান।
কিশোরগঞ্জ -৫ (নিকলী-বাজিতপুর) আসনের অধিক জনপ্রিয় প্রতিটি প্রার্থীই তাঁদের নিজেস্ব অভিমত নানাভাবে ব্যক্ত করে চলেছেন জয়ের সম্ভাবনার দিক উল্লেখ করে। জয়ের লক্ষ্যে প্রত্যেকেই স্বপ্ন দেখছেন নিজেস্ব ভাবনা থেকে।