• বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৪ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও গুলির ঘটনায় সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের নামে মামলা নিকলীতে বালু উত্তোলনের ঘটনাসহ পৃথক ঘটনায় নিহত –২ পর্যটন হাওরে গোসলে নেমে নিখোঁজ পর্যটক ২৪ ঘণ্টা পেরিয়েও মেলেনি সন্ধান, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত হাওরে মাছ কমছে, প্রভাব পড়ছে কিশোরগঞ্জের শতবর্ষী শুঁটকি শিল্পে  নিকলীতে প্রবীণ আওয়ামীগ নেতা ও সাবেক ৪ বারের চেয়ারম্যান আজমল হোসেন গ্রেফতার  আবহাওয়ার আমূল পরিবর্তনের ফলে হাওরের জীববৈচিত্র্য, মৎস্যসম্পদ ও জনজীবনে চ্যালেঞ্জ      হাওরে প্রবেশদ্বার এলাকায় দস্যুদের তাণ্ডব: শিশুকে হত্যা হুমকিতে লুটে নেয় আড়াই লক্ষাধিক টাকা হাওরাঞ্চলের চামড়া অধিকাংশ মাদ্রাসা ও এতিমখানায় আর অনেকে পুঁতে রাখাসহ নদী ও ডোবানালায় ফেলেছেন নিকলী-বাজিতপুরে বিএনপিতে বিভক্তি, সুবিধা নিচ্ছে আ’লীগ মুষলধারে বৃষ্টিতেও শোলাকিয়ায় ঈদের নামাজীর ঢল ঐতিহ্য, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনজীবনের প্রাণকেন্দ্র বাজিতপুর বাজার

হাওরাঞ্চলের পানি শুকিয়ে যেতেই চর দখলের দ্বন্দ্ব, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নানা কথা 

Reporter Name / ১৬৪ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৫

নিজেস্ব প্রতিবেদনঃ নদী চরের মালিক সরকার হলেও উপজেলা প্রশাসন দিচ্ছেন ক্ষমতাধর ব্যক্তির মাঝে ভাগাভাগি করে। সরকার হারাচ্ছে নদীতীর চর ভূমি।

ভূমি সংক্রান্ত বিষয়ের নামজারিসহ বেশ কিছু বিষয়ের জটালতা সমাধানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের রোলমডেল হিসেবে আন্তর্জাতিক সনদ পেলেও এ সংক্রান্ত নানান জটিলতা এখনো চরম পর্যায়েই রয়েছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। সরেজমিনে আদালতে খবর নিলে উঠে আসে সবচেয়ে জটিলতা এখনো ভূমির বিষয়ে। দীর্ঘ মেয়াদি মামলার জট লেগে থাকায় ভাগবাটোয়ারার বিষয়েও দখল দায়িত্বের দ্বন্দ্ব অধিক পরিমাণে। এছাড়াও আইনি ফাঁকফোকরে চলে সরকারি ভূমির বেদখল। সে ক্ষেত্রে চর দখলের দ্বন্দ্বও নিকলীর ন্যায় গোটা বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায়।

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার ছাতিরচর গুরই এলাকার নদীতীর এলাকায় প্রতি বছরই দখল দায়িত্বের দ্বন্দ্ব চরমে উঠে। মারামারি ও দাঙ্গা হাঙ্গামার সৃষ্টি হয়ে থাকে। অধিকাংশ সময়ই দেখা গেছে সেখানে জোর আর কৌশল অধিক আছে যার চরের দখল যেনো তার! পক্ষপাতিত্বে স্থানীয় অসাধু আমলাও নেয় বড় ধরনের সুবিধা।

গত ১৮ নভেম্বর চরের দখল দায়িত্বকে কেন্দ্র করে নিকলীর গুরই ও ছাতিরচর ইউনিয়নের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের আকার ধারন করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরকে অনেকখানি বেগ পোহাতে হয়। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। প্রায় ২০ হাজারের কাছাকাছি হাওর দ্বীপে বসবাসকারী লোকজনকে আটকা পড়ে থাকতে দেখা গেছে চৌরাস্তা বন্ধ থাকায়। যাত্রী পারাপারের সকল ধরণের নৌকাই সে দিন বন্ধ থাকে। উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ ছিলো দুই ইউনিয়ন জুড়েই। লাটি শোটা, দা বল্লাম আর টেটা হাতে বিভিন্ন ধরণের দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত অবস্থায় মারমুখী ভূমিকায় ছিলো কয়েক হাজার লোক। বেশ কয়েক ঘন্টাব্যাপী এমন পরিস্থিতি বিরাজমান ছিলো। এক পর্যায়ে নিকলী উপজেলা প্রশাসন তা নিয়ন্ত্রণে আনে। ১৯ তারিখে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার নির্দেশে উপজেলা ভূমি কর্মকর্তার অফিসে বসে এসি ল্যান্ড তার যৌক্তিকতা দেখিয়ে মৌজা ভিত্তিক কাগজপত্রের মাধ্যমে সমাধানের নির্দেশ প্রদান করেন। যা শুক্রবার দিন সরেজমিনে নকশার মাধ্যমে কার্যকর করা হবে বলে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে উঠে আসে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন দলীয় নেতা-কর্মীদের নেতৃত্বে এই চরের দখল ছিলো। বর্তমানে অনেকাংশে বিএনপির নেতাকর্মীরাই এর দখলের নেতৃত্বে রয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। তবে সাম্প্রতিক বিএনপির একাধিক নেতা বলে চলেছেন মসজিদের উন্নয়ন খাতে এই বছর দেওয়া হবে। চরের বিরোধপূর্ণ বিষয়টি প্রথম দিকে ব্যক্তিগতভাবে দখলের দ্বন্দ্বে বিরাজমান থাকলেও পরবতীতে দুই ইউনিয়নের মধ্যে সেই দ্বন্দ্ব ছড়িয়ে পড়ে। ছাতিরচর ইউনিয়নও এক সময়ে গুরই ইউনিয়নের অধীনেই ছিলো। পরবর্তীতে ২০০১ সালে আলাদা ইউনিয়ন পরিষদের স্বীকৃতি পায়। তবে ভূমি অফিস এখনো গুরইয়েই রয়েছে। 

গুরই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপির সভাপতি আবু তাহের বলেন, ১৭ বছর যাবৎ বিয়াতীরচর এলাকার লোকজনই এই চরের ভোগ দখল করে চলেছে। সাম্প্রতিক এই বছরের এ সময়ে দাঙ্গা হাঙ্গামা একটুখানি ব্যাপক আকারে রূপ নিয়েছে। তবে আপোষের লক্ষ্যে যার যার মৌজা অনুযায়ী শুক্রবারে বন্টন করা হবে বলে স্বীকার করেন। নদী ভাঙ্গনে চরের সৃষ্টি হয়েছে, সরকারের নামে ১নং খতিয়ানভুক্ত স্বীকার করলেও জোতের কথা উল্লেখ করে সিএস, এবং আরওআর বিয়াতিরচর এলাকার ব্যক্তিদের নামে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মিমাংসার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের এসি ল্যান্ড অফিসে নিজে ছিলেন বলেও স্বীকার করেন।

নিকলীর ৭নং ছাতিরচর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পরশ মাহমুদ এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, তিনি ব্যক্তিগত কাজে অন্যত্র থাকায় উপজেলা প্রশাসনের কর্তৃক আপোষ মিমাংসার মিটিংয়ে উপস্থিত হতে পারেননি। তবে তাকে অবগত করা হয়েছে। যার যার কাগজপত্র নিয়ে মৌজা ভিত্তিক নকশার মাধ্যমে আগামী শুক্রবার বন্টন হবে বলে স্বীকার করেন। সেক্ষেত্রে বিগত বছরগুলোতে আওয়ামীগ নেতাকর্মীরা মসজিদের নামে দখল নিয়ে এলেও তাদেরকে মোটা অংকের একটা টাকা দেয়া হতো বলে উল্লেখ করেন। তবে এই বছর এমনটি হবে না বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। এছাড়াও যাদের কাগজপত্র রাইট থাকে তারাই পাবেন বলে উল্লেখ করেন। ৯টি মসজিদে এর আয় বন্টন হবে বলে উল্লেখ করেন। সেক্ষেত্রে চরের মালিক সরকার আর ১নং খতিয়ানের সরকারের নামে মাঠ রেকর্ড ব্যক্তি পর্যায়ে কিভাবে পাবে। এমন জবাবে যাদের কাগজে রাইট আছে তারাই পাবেন বলে উল্লেখ করেন।

নিকলী থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী আরিফ উদ্দিন জানান, ছাতিরচর ইউনিয়নের ও গুরই এলাকার বেয়াতিরচরের মধ্যে চর দখলের দ্বন্দ্ব চরম আকারে রূপ নেয়। দুই পক্ষই মারমুখী ভূমিকায় ছিলো। তাৎক্ষণিক ঘটনার খবর পেয়ে অতিরিক্ত আরও ১০জন পুলিশ নিয়ে হাওরের বুকে ঘটনা স্থলে পৌঁছে গেলে রণক্ষেত্র থেকে রেহাই পায় বলে উল্লেখ করেন। ঘটনার পরদিন এসি ল্যান্ড অফিসে ভাগাভাগির সালিশ হয় বলেও জানান তিনি। সেখানেও নিরাপত্তার লক্ষ্যে তার চার পুলিশ সদস্য ছিলো বলে উল্লেখ করেন।

নিকলী উপজেলা ভূমি সহকারী কর্মকর্তা পতিক দত্তের সাথে এই বিষয়ে কথা হলে তিনি দুই ইউনিয়নের লোকদের মধ্যে মৌজা অনুযায়ী সমান ভাগ করে দিয়েছেন বলে স্বীকার করেন। সেক্ষেত্রে চরের মালিক আইনগতভাবে সব সময় সরকার আর আপনি ১নং খতিয়ানের নদীচর কিভাবে ব্যক্তিরদের নামে ভাগ করে দিলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে সিএস এবং আরওআর প্রসঙ্গ তুলে এক পর্যায়ে মালিকপক্ষ সরকারের নামেও মামলা করেছেন বলে তিনি এসবের নানান যুক্তি দেখান। ২০১৪ সালে নদীচর সরকার লীজে দিয়েছিলো বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সেক্ষেত্রেও লীজ প্রথা বাতিল করা হয়েছে বলে উল্লেখ করায় তিনি এক পর্যায়ে চুপসে যান।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লার সাথে চর দখলের বিষয়ে প্রসঙ্গ জানতে নোট দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে ফোনে কথা হলে তিনি ঢাকার একটি মিটিংয়ে রয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।

 

 

 

 

 

 

 

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd