নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মসজিদ কমিটির টাকা তোলাকে কেন্দ্র একঘরে করলো সমাজপতিরা। বিষয়টি গণমাধ্যমে আসায় এবার চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পুরো এলাকাজুড়ে এ নিয়ে তোলপাড়। একঘরে করে রাখা আবুবক্করের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন থেকে মাদক ব্যবসা, আগ্নেয়াস্ত্রধারী, ডাকাতি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ৮৭ জনের সমন্বয়ে স্বাক্ষরিত নিকলী থানায় এক লিখিত অভিযোগ মিলে সামাজ বাসীর পক্ষ থেকে। অভিযোগের অনুলিপি দেয়া হয় জেলা প্রশাসক ও আর্মি ক্যাম্প বরাবরে। নিকলী থানার ওসির ভাষ্য তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলেই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে আবু বাক্কারের বিরুদ্ধে। তবে আবু বক্করের পরিবারের পক্ষ থেকে একঘরের বিষয়ে কোনো ধরণের অভিযোগ থানায় আসেননি বলেও এক প্রশ্নের জবাবে জানান।
কিশোরগঞ্জের নিকলীর থানা সদরের পশ্চিম কুর্শা গ্রামের জামে মসজিদের উন্নয়ন মূলক কাজের টাকা তোলার সিদ্ধান্ত নেয় মসজিদ কমিটির সভাপতি থেকে শুরু করে স্থানীয় মুসল্লি ও সমাজপতিরা মিলে। দীর্ঘ দুই বছর ধরেই মসজিদের কাজ চলমান বলেও উল্লেখ করেন স্থানীয়রা।
মসজিদের সাথে সংযুক্ত ঈদগাহ মাঠ বাউন্ডারির ভেতরে প্রায় ৪০ শতাংশ জায়গা রয়েছে বলে জানা গেছে সরেজমিনে। বেশ বড় আকৃতির এই মসজিদে আনুমানিক ৯শ’ লোক একত্রে নামাজ আদায় করতে পারেন বলেও জানান স্থানীয়রা।
জানা গেছে মসজিদের চলমান কাজ আর ঈমান ও মোয়াজ্জিনের বেতনসহ খরচের টাকা তোলার লক্ষ্যেই আলোচনা সাপেক্ষে কমিটির লোকজন ও নেতৃত্বস্থানীয়রা রমজান মাসে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ১ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ২ হাজার টাকা তোলেছেন। এ সময় ৪৫০ টি পরিবারের মধ্যে স্থানীয় প্রভাবশালী পরিবারের আবু বাক্কার নামের একজনসহ ৯১ পরিবারের সদস্যদের টাকা দিতে দেরি হয়। বিলম্বে টাকা দেয়ার কারণে মাইকে তাদের প্রত্যেকের নাম ঘোষণা করা হয়। মাইকে নাম ঘোষণা দেওয়ার কারণেই আবু বক্কর প্রথমে ২৬ রমজানের দুপুরের দিকে মসজিদে গিয়ে উত্তেজিত কন্ঠে অশ্লীল বাক্যে কমিটির লোকদের গালমন্দ করেন। এ সময়ে মসজিদ কমিটির সভাপতি ইদ্রিস আলী ওরফে ইদু মিয়া উপস্থিত ছিলেন। সভিপতি নিজে আবু বাক্কারকে এই সময়ে গালমন্দের বিষয়ে বাধা দেন বলেও উল্লেখ করেন। পরবর্তীতে কমিটির ১ হাজার টাকা নিয়ে মসজিদে উপস্থিত হয়ে টাকা প্রদানের পরেও গালমন্দ করেছেন এতেকাফরত জসীম কাশেম অহিদ, জহির লাল ও ইয়াকুব আলীসহ ১০ জনের সামনেই। তাদের মধ্যে জসীমসহ প্রত্যক্ষদর্শীরা এ বকাবকির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
উচ্চ বাক্যে গাল মন্দের পরবর্তী পর্যায়ে ওয়ার্ড মেম্বার হাছান আলী, মিয়া হোসেন, রইছ উদ্দিন ও আবু কাশেম এই ৪ জনে মিলে সরাসরি আবু বাক্কারের বাড়িতে গিয়ে বকাবকির কারণ জানতে চাওয়ার জবাবে মসজিদে সন্ধ্যার পরবর্তী রাতে উপস্থিত হতে বলেন। তখনকার সময়ে বাক্কার উপস্থিত হননি। এ ঘটনায় কমিটির লোকজনসহ স্থানীয়রা সিদ্ধান্ত নেন তাকে এক ঘরে করার বিষয়ে। এ সময়ে প্রধান নেতৃত্বর বিষয়ে কমিটির সভাপতি ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে বক্করের পরিবার থেকে অভিযোগ তোলা হলেও একঘরে রাখার কথা তিনি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন সভাপতি। তবে আশেপাশের দোকানিরা বাক্কারের কাছে সব বিক্রি করছেন বলে উল্লেখ করেন। তবে এক ঘরে করে রাখার বিষয়ে সত্যতা স্বীকার করেছেন অনেকেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকের সাথে কথা হলে তাদের ভাষ্য, আওয়ামীলীগ ক্ষমতা থাকাকালীন সময়ে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) আবু বক্করকে খুঁজতো। তবে কি জন্যে খুঁজতো এমনটি গ্রামবাসী উল্লেখ না করলেও মসজিদ কমিটির সভাপতি ইয়াবা ব্যাবসায়ী ও মাদক কারবারিসহ নডাকাত বলে তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। এমনকি সামাজিক লোকজন তাদের অভিযোগেও উল্লেখ করেছেন। অতীতে সভাপতির ভাইয়ের পরিবারে ডাকাতির দায়ে মামলার আসামি হয়ে হাজত বাক্কার হাজতবাস করেছে বলে জানান স্থানীয়রা।
আবু বক্কর ও পরিবারের ভাষ্য মাদক ব্যবসায়ী ও ডাকাত হিসেবে যে অভিযোগ থানায় দিয়েছেন এটা সম্পূর্ণই সাজানো। এই সবাই সভাপতির লালিত লোক। প্রভাবশালী বলে সভাপতির কথায় উঠে বসে। একঘরে করে রাখার অপরাধকে ধামাচাপা দিতেই এমনটি করেছেন বলেও উল্লেখ করেন। অতীতে মসজিদ কমিটির সভাপতির পরিবারের চক্রান্তেই র্যাবের মাধ্যমে অস্ত্র ও মাদক মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করেছেন বলেও উল্লেখ করেন। এ ঘটনায় তারা বিচারের দাবি তোলেন।
নিকলী থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী আরিফ উদ্দিন এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আবু বক্করের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়াও সামাজিকভাবে একঘরে করে রাখার বিষয়ে কোনো ধরণের অভিযোগ থানায় আসেনি বলেও উল্লেখ করেন।