নিজস্ব প্রতিবেদকঃ নিকলীতে চার সন্তানের জননী জোসনা বেগম (৪০)-এর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের জেরেই তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় গত মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে দামপাড়া ইউনিয়নের বড়কান্দা গ্রামের উত্তরহাটি এলাকায় নিজ ঘর থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে নিকলী থানা পুলিশ।
নিহত জোসনা বেগম প্রবাসী গিয়াস উদ্দিনের (৫০) দ্বিতীয় স্ত্রী। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর গিয়াস উদ্দিন কটিয়াদী উপজেলায় জোসনাকে বিয়ে করেন। প্রথম স্ত্রীর ঘরে তার দুই কন্যা সন্তান ছিল, যাদের ইতোমধ্যে বিয়ে হয়েছে। জোসনার সংসারে দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বাহ্যিকভাবে তাদের সংসার স্বাভাবিকই মনে হতো। কী কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি। প্রায় তিন বছর আগে গিয়াস উদ্দিন মধ্যপ্রাচ্য থেকে দেশে ফিরে আসেন। তবে ঘটনার পর থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বিল্লাল হোসেন জানান, খবর পেয়ে তিনি গ্রাম পুলিশ আব্দুল মোতালিবকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে ঘরের চৌচালা টিনের ধরণার সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় জোসনার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। পরে থানা পুলিশ এসে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
নিকলী উপজেলার দামপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন; তবে একটি সালিশে ব্যস্ত থাকার কথা জানান।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আমির হামজা জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে কিছু বলা সম্ভব নয়।
নিকলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, “প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।” এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে অপমৃত্যুর মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও তিনি জানান।