নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ বাজিতপুরে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তাকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে দুটি পক্ষ। এ নিয়ে তোলপাড় পুরো উপজেলা। তবে ইউএনওর ভাষ্য, এই বিষয়ে তার কোনো ধরণের হাত নেই। তাকে ঘিরে রাজনৈতিক একটি মহল অবৈধ সুবিধা নিতে মরিয়া থাকার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে ফারদা লুটার ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে ইঙ্গিত করেন। তবে অবৈধ বালি ভরাট বন্ধের লক্ষ্যে অভিযানে নামার কারণেই স্বার্থান্বেষী একটি রাজনৈতিক মহল এমনটি করে চলেছেন বলেও উল্লেখ করেন।
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার নিবার্হী কর্মকর্তা ফারাশিদ বিন এনামকে ঘিরে যোগদানের পর থেকেই সমালোচনা রয়েছে। দীর্ঘদিনের অনিয়মের বাস্তবতার পাশাপাশি গত ২৯ সেপ্টেম্বর, বালিমাটির কাজে জড়িত সন্দেহজনক বেশ কিছু লোকজনকে শারিরীক নির্যাতনের কারণে পরদিন ৩০ সেপ্টেম্বর বাজিতপুরে ঘুষ-দুর্নীতি ও শ্রমিক-মেহনতি মানুষের উপর ইউএনওর বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করে স্থানীয় প্রতিবাদী জনতা ব্যানারে।
সোনালী নামের ২৬ বছর যাবৎ সর্দারি কাজে ব্যস্ত এমন একজনকে বলতে শোনা গেছে তার ৫২ জন লেবারের মধ্যে অনেকেই দৌড়ে ধরে এনে মারধরে আহত করেছেন ইউএনও। এ সময়ে বয়োবৃদ্ধ আবদুল মালেকও মোবারক নামের একজনকেও বলতে শোনা গেছে ইউএনও নিজে মারধরে লাঞ্ছিত করেছেন তাদের।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাজিতপুর উপজেলার আবদুল মান্নান স্বপনের নেতৃত্বে সেই মানববন্ধনে এনসিপি, বৈষম্য বিরোধী, শিবির ও গণ অধিকার পরিষদের লোকজনসহ স্থানীদের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন সিনেমা হলের মোড়ে। এ সময় মানববন্ধনের মধ্যে দিয়ে ইউএনওর অপসারণের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে আইনগত বিচারেরও দাবি তোলেন তারা।
অপরদিকে একই স্থানে পরদিন ১ লা অক্টোবর ঐতিহ্যবাহী বাজিতপুর বাজারের সিনেমাহল মোড়েই বিকাল ৪ টার দিকে মিথ্যা ও মানহানির অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানান ইউএনওর পক্ষে সাধারণ জনগণ উল্লেখিত একটি ব্যানারে বেশ কিছু সংখ্যক লোক। এ সময়ে ইউএনওপন্থী কতিপয় একটি মহল আলোচিত সেই ইউএনওকে ঘিরে গুণকীর্তন করতেও শোনা গেছে। মূলত ইউএনওকে বহাল তবিয়তে রাখার লক্ষ্যেই এমনটি করা হয়েছে। এমন গুঞ্জন রয়েছে সরেজমিনে।
আলোচিত সেই উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা ফারাশিদ বিন এনাম ২০২২ সালে এ পদে যোগদান করেন। তবে বাজিতপুর উপজেলাতে যোগদান করেন ২৭ জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দে। যোগানদানের পর থেকেই রয়েছে এ কর্মকর্তাকে ঘিরে সীমাহীন সমালোচনা। শান্তিপ্রিয় অসংখ্য মানুষের সাথে কথা হলে তারা স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, যারা বাজিতপুর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তাকে ঘীরে গুণকীর্তন করে চলেছেন তাদের অধিকাংশই নানানভাবে সুবিধা নিচ্ছেন তার কাছে থেকে। বালিসহ বিভিন্ন বিষয়ে রাজনৈতিক অধিক ক্ষমতাধর অসাধুদেরকে তিনি সুবিধা দিয়ে থাকেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে।
এই বিষয়ে আবদুল মান্নান স্বপন তার ব্যক্তিগত আইডিতে ইউএনওকে ঘিরে এলাকায় নিজেদের মধ্যে যাতে কোনো ধরণের বিশৃঙ্খলার পরিবেশ সৃষ্টি না করে এই লক্ষ্যে একটি স্ট্যাটাসও প্রদান করেছেন।
বাজিতপুর উপজেলার এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী আলম বাহাগির জানান, ৩০ সেপ্টেম্বরের মানববন্ধনে তিনি উপস্থিত থেকে ইউএনওর অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। অনুমেয় ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই পরবর্তী সময়ে তার বাড়ির সামনের রাস্তায় অপরিচিত বেশ কিছু মোটর বাইকার এসে উপস্থিত হন। বাড়ির সামনের সব ক’টি লাইট বন্ধ করে দিয়ে তার উদ্দেশ্যে অশ্লীল বাক্যে জীবন নাসের হুমকি প্রদর্শনে গালমন্দ করে। নিরাপত্তাহীন ভেবে বাজিতপুর থানায় সাধারণ ডায়রি করে।
বাজিতপুর উপজেলাধীন বলিয়াদী স্কুল এন্ড কলেজের প্রিন্সিপাল পরিচয়ে আবদুল মান্নান স্বপন বলেন, প্রতিবাদী বলেই বিচার পাওয়ার লক্ষ্যে ইউএনওর প্রসঙ্গে সহজে ঘটনা জানতে পারি। ২৯ সেপ্টেম্বর একাধিক ড্রেজারের মধ্যে একটি ড্রেজারের মালিক ইউএনওকে টাকা দেয়নি বলে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময়ে শারীরিক নির্যাতন করে কর্মচারী থেকে শুরু করে পথচারী এমনকি সাধারণ মানুষের উপরেও। অসংখ্য প্রমাণ দিয়ে বলেন, ইউএনওকে টাকা দিলেই ড্রেজার চলে আর টাকা না দিলেই অবৈধ বলে বন্ধ করে দেন। টাকা দিলে পুনরায় চালুও করেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়াও উল্লেখ করেন, অর্থনৈতিক সুবিধা দিয়ে ইউএনও কিছু দালালও লালন করেন তার পক্ষে সাফাইয়ের জন্যে।
বাজিতপুর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা ফারাশিদ বিন এনাম এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, তার বিরুদ্ধে মানববন্ধনে আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন। বালি ভরাটের অনিয়ম বিষয়ে অভিযান পরিচালনা করলেও নিরিহ কিংবা নিরপরাধ কাউকে তিনি কখনোই আঘাত করেননি। এছাড়াও ঝুঁকি নিয়ে বাজিতপুরে অনেক ভালো কাজ করেছেন বলে উল্লেখ করেন। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অনেকখানি রাজনৈতিক গ্রুপিং দ্বন্দ্বের জের বলেও জানান। তাই তিনি বাজিতপুর থেকে অন্যত্র চলে যাওয়ার লক্ষ্যে উপর মহলে যোগাযোগ করে চলেছেন। তাছাড়া তার পক্ষে মানববন্ধনের বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন বলে দাবি করেন।
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খানের সাথে যোগাযোগের লক্ষ্যে ২ অক্টোবর একাধিকবার মুঠোফোন চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।