• বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১০:৪১ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও গুলির ঘটনায় সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের নামে মামলা নিকলীতে বালু উত্তোলনের ঘটনাসহ পৃথক ঘটনায় নিহত –২ পর্যটন হাওরে গোসলে নেমে নিখোঁজ পর্যটক ২৪ ঘণ্টা পেরিয়েও মেলেনি সন্ধান, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত হাওরে মাছ কমছে, প্রভাব পড়ছে কিশোরগঞ্জের শতবর্ষী শুঁটকি শিল্পে  নিকলীতে প্রবীণ আওয়ামীগ নেতা ও সাবেক ৪ বারের চেয়ারম্যান আজমল হোসেন গ্রেফতার  আবহাওয়ার আমূল পরিবর্তনের ফলে হাওরের জীববৈচিত্র্য, মৎস্যসম্পদ ও জনজীবনে চ্যালেঞ্জ      হাওরে প্রবেশদ্বার এলাকায় দস্যুদের তাণ্ডব: শিশুকে হত্যা হুমকিতে লুটে নেয় আড়াই লক্ষাধিক টাকা হাওরাঞ্চলের চামড়া অধিকাংশ মাদ্রাসা ও এতিমখানায় আর অনেকে পুঁতে রাখাসহ নদী ও ডোবানালায় ফেলেছেন নিকলী-বাজিতপুরে বিএনপিতে বিভক্তি, সুবিধা নিচ্ছে আ’লীগ মুষলধারে বৃষ্টিতেও শোলাকিয়ায় ঈদের নামাজীর ঢল ঐতিহ্য, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনজীবনের প্রাণকেন্দ্র বাজিতপুর বাজার

শিশুর বায়না পূরণ হলো না বৈশাখে: ইলিশ এখন দুর্লভ

Reporter Name / ২৫১ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬

পহেলা বৈশাখে হাওরে শিশু-কিশোরদের বিনোদন

নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ পহেলা বৈশাখে ইলিশ খাওয়ার বায়না পূরণ করতে পারেননি অনেক অভিভাবক। হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন হাট ঘুরেও মেলেনি কাঙ্ক্ষিত ইলিশ। ফলে শিশুদের ইচ্ছা অপূর্ণই থেকে গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, হাওর এলাকায় এখন ইলিশ যেন দুর্লভ সম্পদে পরিণত হয়েছে।

কিশোরগঞ্জের নিকলী, বাজিতপুর, অষ্টগ্রাম, ইটনা ও মিঠামইনসহ আশপাশের বিভিন্ন হাওরাঞ্চল ঘুরে এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুই থেকে আড়াই হাজার টাকাতেও কেজির বেশি ওজনের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি ছোট আকারের ইলিশও সহজে মিলছে না গ্রামীণ বাজারগুলোতে।

নিকলী উপজেলার আঠারবাড়িয়া এলাকার ক্ষুদ্র চাউল-তেল ব্যবসায়ী কাশেম জানান, তার পাঁচ বছর বয়সী ছেলে জিসান কয়েকদিন ধরে পহেলা বৈশাখে ইলিশ খাওয়ার বায়না ধরেছিল। ছেলের ইচ্ছা পূরণ করতে তিনি আশপাশের বেশ কয়েকটি হাটে খোঁজ করেও ইলিশ পাননি। শেষ পর্যন্ত ছেলেকে আশ্বস্ত করেছেন, চট্টগ্রাম থেকে লোক মারফত ইলিশ এনে দেবেন।

একই উপজেলার রোদারপুড়া এলাকার নুরচান বলেন, সন্তানের চাহিদা মেটাতে তিনি চট্টগ্রাম থেকে এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ কিনে এনেছেন, যার দাম পড়েছে ২ হাজার ৬০০ টাকা।

অষ্টগ্রাম উপজেলার আলীনগরের সাইফুল ইসলাম বলেন, “ইলিশ এখন হাওরাঞ্চলের সাধারণ মানুষের জন্য প্রায় দুর্লভ। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ইলিশ খাওয়া এখন দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

বাজিতপুর উপজেলার গাজীরচর ইউনিয়নের রিকশাচালক আপন জানান, “পহেলা বৈশাখ তো দূরের কথা, কয়েক বছর ধরেই দামের কারণে ইলিশ কিনে খাওয়া হয় না।” একই ধরনের আক্ষেপ করেছেন আরও অনেক রিকশাচালক ও দিনমজুর। তাদের মতে, বৈশাখের ইলিশ এখন কেবল বিত্তশালীদের নাগালেই সীমাবদ্ধ; নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে এই মাছ কেনা প্রায় অসম্ভব। এমনকি নতুন পোশাক পরে বৈশাখ উদ্‌যাপন করাও অনেকের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে।

তবে ইলিশের অভাব থাকলেও হাওরাঞ্চলের বৈশাখী আনন্দ থেমে নেই। বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, শিশু-কিশোররা বৈশাখী সাজে রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে বসেছে বৈশাখী মেলা। এসব মেলায় রঙিন পোশাকে শিশু-কিশোরদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। তাদের হাতে দেখা গেছে মৃৎশিল্পের নানা সামগ্রী, রঙিন বেলুন ও খেলনা। কেউ হেঁটে, কেউবা ছোট বাহনে চড়ে আনন্দে মেতে উঠেছে।

নিকলী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনা মজুমদার মুক্তি জানান, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে শিশু-কিশোরদের আনন্দের জন্য মেলা আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd