• মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:১২ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও গুলির ঘটনায় সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের নামে মামলা নিকলীতে বালু উত্তোলনের ঘটনাসহ পৃথক ঘটনায় নিহত –২ পর্যটন হাওরে গোসলে নেমে নিখোঁজ পর্যটক ২৪ ঘণ্টা পেরিয়েও মেলেনি সন্ধান, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত হাওরে মাছ কমছে, প্রভাব পড়ছে কিশোরগঞ্জের শতবর্ষী শুঁটকি শিল্পে  নিকলীতে প্রবীণ আওয়ামীগ নেতা ও সাবেক ৪ বারের চেয়ারম্যান আজমল হোসেন গ্রেফতার  আবহাওয়ার আমূল পরিবর্তনের ফলে হাওরের জীববৈচিত্র্য, মৎস্যসম্পদ ও জনজীবনে চ্যালেঞ্জ      হাওরে প্রবেশদ্বার এলাকায় দস্যুদের তাণ্ডব: শিশুকে হত্যা হুমকিতে লুটে নেয় আড়াই লক্ষাধিক টাকা হাওরাঞ্চলের চামড়া অধিকাংশ মাদ্রাসা ও এতিমখানায় আর অনেকে পুঁতে রাখাসহ নদী ও ডোবানালায় ফেলেছেন নিকলী-বাজিতপুরে বিএনপিতে বিভক্তি, সুবিধা নিচ্ছে আ’লীগ মুষলধারে বৃষ্টিতেও শোলাকিয়ায় ঈদের নামাজীর ঢল ঐতিহ্য, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনজীবনের প্রাণকেন্দ্র বাজিতপুর বাজার

হাওরের পর্যটন এলাকার প্রবেশ পথে বাড়ছে ভোগান্তি

Reporter Name / ৩৪৫ Time View
Update : শনিবার, ২২ মার্চ, ২০২৫

নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ হাওর অঞ্চলের পর্যটন এলাকার প্রবেশ মুখের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় বাড়ছে দিন দিন ভোগান্তি। পরিকল্পনাহীন সরু রাস্তার একাধিক স্থানের সংস্কারের অভাবসহ দখল দায়িত্বের ফলে সমস্যা দিন দিন তিব্রতর আকার ধারণ করে চলেছে।

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলা ও তৎসংলগ্ন উপজেলাকে হাওরের প্রবেশদ্বার বলে আখ্যায়িত করা হয়। বর্যায় হাওরের পর্যটন এলাকার মনোরম পরিবেশের দিবা ও নৈসর্গিক দৃশ্য উপভোগের লক্ষ্যে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে দর্শকরা ভীড় জমায়। তবে এ দৃশ্য উপভোগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে নিকলী উপজেলার দক্ষিণ দিকের সবকটি সরু প্রবেশ রাস্তার জন্যে। দক্ষিণ দিকে থেকে ভৈরব কুলিয়ারচর হয়ে বাজিতপুর উপজেলার উপর দিয়ে যখনি নিকলীতে প্রবেশ করে তখনি সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়ে চালক ও যাত্রীরা। এক দিক দিয়ে পরিকল্পহীন সরু রাস্তা অপর দিকে নিন্মমানের কাজের ফলে রাস্তার ভাঙ্গনেও বেহাল দশার সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি সঠিক তদারকির অভাবের কারণে রাস্তার ঢালে অসংখ্য প্রভাবশালী তাদের বাসা ও দোকনপাটসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে বসেছে। প্রতি নিয়তিই ভোগান্তি ও দূর্ঘটনার তথ্য চিত্র মিলে সরেজমিনে সরু ও ঝূঁকিপূর্ণ এ রাস্তার কারণে।

সরেজমিনে দেখা গেছে জনবহুল নিকলী সদরের রাস্তাটি এতোটাই সরু এবং ভাংগা যে, মাঝারি বা বড় সাইজের দু’টো গাড়ী মুখোমুখি অতিক্রম করা অনেকটাই অসম্ভব হয়ে উঠে। ঝুঁকি নিয়ে নিচের ভাঙ্গা মেঠো স্থানে নামা ছাড়া অতিক্রমের বিকল্প আর কোনো উপায় থাকে না। এছাড়াও তথ্য মিলেছে ঘনবসতিপূর্ণ এ উপজেলা সদরের হাসপাতালে দৈনিক বেশ কয়েক হাজার রোগী চিকিৎসা নিতে এসে রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে সপ্তাহের প্রতি বুধবার হলে অসংখ্য হাওর থেকে জেলার সর্ববৃহৎ গরুর হাটে নিকলীর গুপিরায়ের বাজারে প্রবেশের সময় বাধার মুখে পড়ে গরু বোঝাই করা ট্রাকগুলোকে। এছাড়াও হাসপাতালের রোগীর গাড়ী, ইট ও বালি-মাটি বোঝাই ট্রাসহ আগত বড় সাইজের গাড়ির কারণে অধিক পরিমাণে যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে সড়ক ও জনপদের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি তথা সরকারের প্রতিও সমালোচনা করতে শোনা যায় স্থানীয়দের। বুধবার দিন হলে যানজটের আটকা পড়া অনেকের জামাকাপড় ও শরীর নষ্ট হতে দেখা গেছে গরু-মহিসের ছেনালেদার কারণে। এর ফলে অনেক সময় সৃষ্টি হয় অনাকাঙ্ক্ষিত ঝগড়াঝাঁটির। তাছাড়াও গবাদি পশুভর্তি ট্রাকসহ জনগণকে যানজটে পড়ে রোদ বৃষ্টিতে কষ্ট পোহাতেও দেখা গেছে। মাঝে মাঝে রাস্তার গর্তে তদারকির দায়িত্বে থাকাদেরকে বালি মাটি দিয়ে প্রলেপ দিতেও দেখা গেছে। এর ফলে বৃষ্টির সময়ে ইজিবাইক চালক ও যাত্রীরা অনাকাঙ্ক্ষিত দূর্ঘটনার শিকার হয় বলেও জানান স্থানীয়রা।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে নিকলী উপজেলাতে তিনটি ইটভাটা আর সংলগ্নে কটিয়াদী থানাধীন করগাঁও কান্দালীয়ার ১টি ইটভাটার মালিক পক্ষের লোকেরা দিবানিশি অতিরিক্ত বোঝাই করা ইট ও মাটি আনা নেওয়ার কারণেও একদিকে যেমন রাস্তার ক্ষতি হচ্ছে অপরদিকে অতিরিক্ত যানজটেরও সৃষ্টি হচ্ছে।

বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা ও স্থানীয় অসংখ্য পর্যটক, যাত্রী ও চালকের সাথে কথা হলে তাদের সকলের প্রায় একটাই ভাষ্য, পর্যটন এলাকার শেষ সীমান্তের ইটনা মিটামইন, অষ্টগ্রামের রাস্তা ও পাশের দৃশ্য মনোরম হলেও প্রবেশের রাস্তার জন্যে চরম অস্বস্তি পোহাতে হচ্ছে। পাশাপাশি ঝুঁকি নিয়েই প্রতিনিয়ত চলাচলা করতে হয় যাত্রী ও চালকদেরকে।

নিকলী সদর এলাকার ভূমি অফিস সংলগ্নে গার্লস স্কুলের মোড়ের কনফেকশনারি দোকানি মালিক নাঈম জানান, রাস্তাটি সরু ও ভাঙ্গার কারণে প্রায়ই যানজট ও দূর্ঘটনার দৃশ্য চোখে। প্রভাবশালীদের অনেকে সরকারী রাস্তার ঢালও দখল করে রেখেছে। সঠিক তদারকির প্রতিও তিনি জোর দাবি জানান।

নিকলী উপজেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মোহাম্মদ সোহাগ মিয়া এক প্রশ্নের জবাবে জানান, সদরের প্রাণকেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনপদের এই রাস্তাটি সরু ও বেহাল দশার কারণে দুটো অটোরিকশা পর্যন্ত মুখোমুখি অতিক্রমে বাধাগ্রস্ত হয়। রোগীর গাড়িরও যানজটে পড়ে ভোগান্তির শিকার হয়ে থাকে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নিকলী উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সাথে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার বেহাল দশার বাস্তবতা নিয়ে কথা হলে তিনিও জনভোগান্তির বিষয়ে সহমত পোষণ করেছেন। তবে এটি সড়ক ও জনপদের অধীনস্থ কাজ বলে তার হাতে তেমন কোন সুযোগ নেই বলেও উল্লেখ করেন।

কিশোরগঞ্জ জেলা সড়ক ও জনপদের দায়িত্বে থাকা শাকিল মোহাম্মদ ফয়সালকে ২২ মার্চ বেলা আড়াইটার দিকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

 

 

 

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd