• মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৮ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও গুলির ঘটনায় সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের নামে মামলা নিকলীতে বালু উত্তোলনের ঘটনাসহ পৃথক ঘটনায় নিহত –২ পর্যটন হাওরে গোসলে নেমে নিখোঁজ পর্যটক ২৪ ঘণ্টা পেরিয়েও মেলেনি সন্ধান, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত হাওরে মাছ কমছে, প্রভাব পড়ছে কিশোরগঞ্জের শতবর্ষী শুঁটকি শিল্পে  নিকলীতে প্রবীণ আওয়ামীগ নেতা ও সাবেক ৪ বারের চেয়ারম্যান আজমল হোসেন গ্রেফতার  আবহাওয়ার আমূল পরিবর্তনের ফলে হাওরের জীববৈচিত্র্য, মৎস্যসম্পদ ও জনজীবনে চ্যালেঞ্জ      হাওরে প্রবেশদ্বার এলাকায় দস্যুদের তাণ্ডব: শিশুকে হত্যা হুমকিতে লুটে নেয় আড়াই লক্ষাধিক টাকা হাওরাঞ্চলের চামড়া অধিকাংশ মাদ্রাসা ও এতিমখানায় আর অনেকে পুঁতে রাখাসহ নদী ও ডোবানালায় ফেলেছেন নিকলী-বাজিতপুরে বিএনপিতে বিভক্তি, সুবিধা নিচ্ছে আ’লীগ মুষলধারে বৃষ্টিতেও শোলাকিয়ায় ঈদের নামাজীর ঢল ঐতিহ্য, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনজীবনের প্রাণকেন্দ্র বাজিতপুর বাজার

শৈত্য প্রবাহে নীড়হারা মানসিক রোগীদের অবস্থা শোচনীয়

Reporter Name / ২৮৫ Time View
Update : শনিবার, ২৫ জানুয়ারী, ২০২৫

😭ভবঘুরে মানসিক রোগীদের তদারকির অভাব👉দায় কার 

হাওর অঞ্চলে থেকে বিশেষ প্রতিনিধিঃ শৈত্য প্রবাহে হাওর অঞ্চলের নীড় হারা মানসিক রোগীদের অবস্থা তুলনামূলক অনেকটা শোচনীয়। সরকারকে এমন বাস্তবতার দায় এড়াতে গেলে সরকারের দায়বদ্ধতার পাশাপাশি বিত্তশালী জনগণ ও দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতা পারে একমাত্র এ সকল মানসিক প্রতিবন্ধীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এমন অভিমত সচেতন মহলের।

 

হাওর অঞ্চলগুলোতে শীতকালে নীড় হারা ভবঘুরে মানসিক রোগীরা অধিক পরিমাণে কষ্টের মধ্যে ময়লাযুক্ত পোশাক আর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে শীতের দাপটে হাঁটু গেড়ে জবুথবু অবস্থায় বসে থাকতে দেখা গেছে। বাত ব্যথা আর ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা তাদের ক্ষেত্রে অধিক পরিমাণে দেখা দিতে থাকে।

 

কিশোরগঞ্জের নিকলী, বাজিতপুর, অষ্টগ্রাম, ইটনা মিঠামইনসহ হাওর অঞ্চলের বুকে শৈত্য প্রবাহে ঠাণ্ডার পরিমাণ বাড়ার কারণে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হওয়ার সাহস দেখায় না। এসব অঞ্চলে শহরের তুলনায় খোলামেলা বলে বাতাস বেশি অনুভব হয় আর গাছগাছড়া অধিক বলে ঠাণ্ডার পরিমাণও বেশি অনুভূত হয়ে থাকে।

 

গরমের দিনের তুলনায় ভবঘুরে মানসিক রোগীদেরও তেমন একটা চোঁখে পড়ে না। স্বজন সঙ্গীহীন এসব অস্বাভাবিক মানুষের খোঁজ খবর চোখের আড়াল হলে খুব কম সংখ্যকই নিয়ে থাকেন। ওরা সাধারণত গ্রামের হাটে বাজারে ও বাড়ি ঘরে, জনবহুল রাস্তায়, রেলওয়ের ষ্টেশনে, ঘুরে ফিরে চেয়ে চিনতে করুণার পাত্র হিসেবে অস্বাভাবিক জীবন যাপনে অভ্যস্ত। মানসিক রোগীদের পারিবারিকভাবে সুখে শান্তিতে স্বাভাবিকভাবে রাখা হলেও তারা তা পছন্দ করে না। এলোমেলো অস্বাভাবিক চলাফেরা করতে তারা আগ্রহ দেখায়।

 

অনুসন্ধানে দেখা গেছে অস্বাভাবিক ঠান্ডা মৌসুমে তাদের ঠাণ্ডাজনিত রোগ বালাই আর মৃত্যুর পরিমাণও বেশি হয়ে থাকে। অনাদরে, অবহেলায় শীতকালীন সময়ে আঘাতপ্রাপ্ত হলে পরিচর্যা আর সঠিক চিকিৎসার অভাব থেকে তাদের শরীরের ক্ষত দীর্ঘস্থায়ী হয়ে উঠে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস, নিয়মিত গোসলের অভাব আর ময়লাযুক্ত কাপড় পরিধানের কারণেও ক্ষতস্থানে জীবাণুরা সহজে আক্রমণের সুযোগ পেয়ে বসে। তুলনামূলক তাদের শরীরের জামাকাপড় আর গোসলের অভাব থেকে শীতকালীন সময়ে দুর্গন্ধ বেশি ছড়ায়। অস্বাভাবিক চলাফেরা, তাদের আচরণ, চাহনি এবং পোষাক পরিচ্ছদ আর অগোছালো চুল দেখেই অনুমান করা হয় মানসিক রোগীদের। গ্রামের ভাষায় তাদেরকে পাগল বলেও ডেকে থাকে। মূলত পাগলামি স্বভাবের কারণে তারা পাগল বলেই পরিচিতি পায়।

 

শৈত প্রবাহে বা প্রচণ্ড শীতের কুয়াশার সময়ে ক্ষুধা নিবারণের আশায় বাহিরে ঘুরা ফেরায় জামা ভিজে গেলে সেই ভেজা অবস্থাতেই রাত্রি কাটাতে দেখা গেছে। কখনো কখনো গ্রামের মানুষের পরিত্যক্ত ঘরে, দোকানের সামনে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে হেলান দিয়ে শীত থেকে পরিত্রাণের লক্ষ্যে রাত্রি কাটায়।

 

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এখন আর আগের মতো গ্রামের স্কুলের বারান্দায় অবস্থান করার তাদের সু্যোগ নেই। বর্তমানের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারন্দাগুলোতে গ্রীল হয়ে গেছে। মসজিদ ও মন্দিরগুলোতেও তাদের থাকতে দেয়া হয় না বলে জানা গেছে। তাই শীতে কাবু হয়ে ঠাণ্ডা বাতাস থেকে পরিত্রাণের লক্ষ্যে নোংরা কাপড় শরীরে জড়িয়ে উষ্ণতা নেয়ার চেষ্টায় লোকালয়ের ভীড়ে থাকার চেষ্টা করে থাকে। অপরিষ্কার অপরিচ্ছন্নতার কারণে অনেক সময় লোকালয়ের ভীড়েও সুযোগ মিলে না বলে জানা গেছে।

 

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার জারইতলা ইউনিয়নের আঠার বাড়িয়া টাওয়ারের মোড়ে ছাব্বির নামধারী এক পরিচয়হীন মানসিক রোগীকে শৈত্য প্রবাহের মধ্যে ঠাণ্ডাজনিত অসুখে আর শীতবস্ত্রের অভাবে কষ্ট করতে দেখা গেছে। শীতের দাপটে জবুথবু অবস্থায় হাঁটু গেড়ে রাত্রি যাপন করে কখনো রাস্তার পাশে, কখনো চায়ের স্টলের পাশে। কখনো দোকানের সামনে কখনোবা গাছতলায়। অভিজ্ঞদের ভাষ্য এটা শুধু নিকলীতে অবস্থানকারী মানসিক প্রতিবন্ধী ছাব্বিরর ক্ষেত্রে নয় এটা গোটা বাংলাদেশের গ্রাম-গঞ্জের বাস্তবতার চিত্র।

 

গত ৩১ ডিসেম্বর থেকে নিকলীসহ আশেপাশের হাওর অঞ্চলগুলোতে শৈত্য প্রবাহের কারণে শুধু যে মানসিক ভারসাম্যহীনরাই কষ্টে আছে তা নয়, তুলনামূলক গ্রামের খেটে খাওয়া দিন-মজুর, কৃষক ও জেলে তথা শিশু-কিশোর এবং বয়োবৃদ্ধদের কষ্টের পরিমাণও অধিক পরিমাণে বেড়ে গেছে অনুসন্ধানে উঠে আসে। শিশু ও বয়স্কদের ঠান্ডাজনিত রোগ বালাইও বেড়ে গেছে বলে স্থানীয় হাসপাতাল সূত্র নিশ্চিত করে। বলা চলে অস্বাভাবিক শীত আর শৈত্য প্রবাহে হাওর অঞ্চলের জনজীবন যেনো অনেকটাই স্থবির। কৃষকদের আফসোসের ভাষ্য, মৌসুমী ফসলের মূল্যও অস্বাভাবিক ঠান্ডায় হঠাৎ কমেছে। অস্বাভাবিক এই ঠান্ডা দীর্ঘস্থায়ী হলে কিছু ফসলের মুকুল ঝরে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করে চলেছেন স্থানীয় কৃষকরা। বিভিন্ন ধরণের শীতকালীন সবজি ক্ষেতে অতিরিক্ত ঠান্ডা হলে রোগ বালাই এবং খরচের পরিমাণ এমনকি পরিচর্যাজনিত কষ্টও বেড়ে যাবে । বোরো আবাদেও কৃষকদের কষ্ট বেড়ে যাবে। গবাদি পশু থেকে শুরু করে পাখিরাও এই অসহনীয় আবহাওয়াতে অভ্যস্ত না থাকায় জবুথবু অবস্থায় রয়েছে। জারইতলাতে রাইসা ও তুর্য নামের দুই শিশুকে ঠাণ্ডা থেকে বাঁচতে ছাতা মাথায় কিন্ডারগার্টেন যেতে দেখা গেছে।

 

মানবতার সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি থেকে শুরু করে সচেতন মহলের যুক্তি মানসিক ভারসাম্যহীনদের পরিচর্যায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে অধিক পরিমাণে সেবা কেন্দ্র স্থাপনে গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি সঠিক সেবামূলক কার্যক্রম সচল রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন স্বজনদেরকেই মানসিক রোগীদের বিষয়ে তদারকি করা। তদারকির অভাবে যেনো কোন রোগী ঘরছাড়া না হয়। সরকারিভাবে মানসিক রোগীদের ডাটাবেজ তৈরি করা থেকে শুরু করে খোঁজ খবর নেয়ার পাশাপাশি সেবামূলক কার্যকরী ব্যবস্থায় গুরুত্ব দিতে হবে। দিন দিন মানসিক রোগী বেড়ে যাওয়ার কারণও নির্ণয় করে সরকারকে দায় মুক্তির লক্ষ্যে রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে চিকিৎসালয়ে ভর্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারকে সহযোগিতার লক্ষ্যে প্রতিটি মানুষের ভাবনায় থাকতে হবে ওরাও মানুষ, সেবা দিয়ে সহায়তার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলা নাগরিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। এই শীতে যাতে অনাদরে আর অবহেলায় কোন মানসিক রোগীর অস্বাভাবিক মৃত্যু না হয় এ দিকেও খেয়াল রাখা নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে নিতে হবে। সরকারের দায়বদ্ধতার পাশাপাশি বিত্তশালী জনগণ ও দেশি বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় পারে এ সকল মানসিক প্রতিবন্ধীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে। তবেই কমে আসবে মানসিক রোগীর সংখ্যা।

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd