নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ বর্ষাকালে হাওরাঞ্চলে বেড়ে যায় বিয়েরসহ নানান অনুষ্ঠান, এতদসত্ত্বেও রবি সম্প্রদায়ের আফসোসের ভাষ্যমতে, দেশ ডিজিটাল হলেও পুড়েছে তাদের কপাল!
কিশোরগঞ্জের নিকলী, বাজিতপুর, অষ্টগ্রাম, ইটনাও মিঠামইনসহ আশেপাশের অনেক জেলা ও উপজেলাতে বর্যার পানি বৃদ্ধির সাথে সাথেই বেড়ে যায় বিয়ের অনুষ্ঠান। তবে রবি সম্প্রদায়ের আফসোসের ভাষ্য, আগের মতো এখন আর তাদের কদর নেই।
সরেজমিনে হাওর অঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে তুলনামূলক বর্ষার আগমন মুহুর্তে বিয়ের অনুষ্ঠান অনেক বেশি। অনেকে অপেক্ষায় থাকেন কখন কাঙ্ক্ষিত সেই বর্যার টলমলে পানির আগমন ঘটবে, কখন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমিতে পরিণত হবে হাওর অঞ্চল, কখন তাদের অনুষ্ঠান এবং কাঙ্খিত সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ হয়ে উঠবে। এমনি অধির আগ্রহে থাকতে দেখা গেছে নিকলী উপজেলার জারইতলার নয়নের ক্রোয়েশিয়া প্রবাসী সানাউল্লাহর ছেলের মতো অসংখ্য যুবককে।
পারিবারিক এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে ইউরোপের দেশ ক্রোয়েশিয়া থাকাকালীন সময়ে ইটনা উপজেলার এলংজুড়ি ইউনিয়নের সিন্ধি গ্রামের সাহেব আলীর মেয়ে তমার সাথে পারিবারিক সূত্র ধরেই মুঠোফোনে কথাবার্তা হয়। এক পর্যায়ে উভয়ের সম্মতিক্রমে পারিবারিকভাবে বিয়ের আলাপ আলোচনা হলেও উভয় পক্ষই বর্ষার আগমনের অপেক্ষায় প্রহর গুনেন বলে জানা গেছে। যখনি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমের হাওরে পানির আগমনের দৃশ্য দেখতে পান তখনই সুদূর ক্রোয়েশিয়া থেকে ৬ জুন দেশে ফিরে আসেন এবং ১৩ জুন বরযাত্রী নিয়ে নৌকায় করে কনে বাড়িতে হাজির হন।
হাওরের বুক দিয়ে বরযাত্রী নিয়ে ১৮ হাজার টাকার বিনিময়ে বয়ে চলা ইকরামনির নৌ-মাঝি হোসেনের সাথে কথা হলে তিনি জানান, বর্ষাতেই তাদের ইনকাম বড়ে যায়। বিয়ের অনুষ্ঠান ছাড়াও বিভিন্ন এলাকার পর্যটরা হাওর এলাকা ভ্রমণের লক্ষ্যে ঘন্টা ব্যাপী নৌকা ভাড়া নিয়ে থাকেন। এমনকি হাওরের নৈশগ্রিক সৌন্দর্য উপভোগ থেকে শুরু করে নানান ধরণের অনুষ্ঠানের জন্যেও তারা নৌ ভাড়া দিয়ে অতিরিক্ত টাকা আয় করে থাকেন বলে উল্লেখ করেন। তবে বিয়ের অনুষ্ঠান এই সময়ে অধিক পরিমাণে বলে তিনিসহ অসংখ্য নৌ মাঝিরা উল্লেখ করেন।
পরিতাপের বিষয় জারইতলার বিগুন রবিদাসের ন্যায় আশেপাশের বেশ কিছু রবি সম্প্রদায়ের লোকজনের সাথে কথা হলে তাদের আফসোসের ভাষ্য, আগের তুলনায় তাদের ইনকাম অনেকটা কমে গেছে। এখন নৌকায় করে আর পালকি নিতে চায় না। প্লাস্টিকের জুতার অধিক প্রচলনের কারণে জুতার কাজও কমে গেছে। চামড়ারও উপযুক্ত মূল্য না পেয়ে হতাশায় ভোগছেন বলে জানান তারা।
আফসোসে আরও উল্লেখ করে বলেন, হাওরাঞ্চলগুলোতে মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ বলে পারিবারিক কাজেও তাদের কদর তুলনামূলক কম। সাম্প্রতিক শোচনীয় অবস্থা বলেও উল্লেখ করেন।
স্থানীয় লাঠি খেলার দায়িত্বে থাকাদের থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরণের বাদ্যযন্ত্রের সাথে জড়িত থাকাদের সাথে কথা হলে তারাও উল্লেখ করেন
বর্ষাকালেই অধিক পরিমাণে অনুষ্ঠানের বায়না পেয়ে থাকেন।
স্থানীয় অসংখ্য বরযাত্রী পক্ষ থেকে শুরু করে কনে পক্ষের লোকজনদের সাথে কথা হলে তাদের সকলের প্রায় একটাই অভিমত নৌকা ভ্রমণ তুলনামূলক স্বাচ্ছন্দ্যের। এছাড়াও খরচও তুলনামূলক কম। তাই বছরের অন্যান্য সময়ে বিয়ের কথাবার্তা সম্পূর্ণ হয়ে থাকলেও বর্ষা মৌসুমেই তাদের অধিকাংশ বিয়ের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এ বাস্তবতাও তারা তুলে ধরেন।