নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ তামাকজাত দ্রব্যের মধ্যে বিড়ি সিগারেট জাতীয় ধূমপান সেবনে বাড়ছে অধিক মৃত্যু ঝুঁকি। এমন কঠিন বাস্তবতা জেনেও করে তা পান! হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন বয়সের অধিকাংশ লোকেরাই এ নেশায় আসক্ত সয়ে থাকে বলে একাধিক জরিপে উঠে এসেছে। ধূমপানের ফলে এমন কোনো ধরণের রোগ নেই যার উপর এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে না। জীবনীশক্তি ধ্বংস থেকে শুরু করে কর্মক্ষমতা কমিয়ে থাকে। মানসিক ক্ষতির পাশাপাশি শারীরিক চিকিৎসার ব্যয় অস্বাভাবিক হয়ে থাকে বলেও নানাবিধ গবেষণায় তা উঠে এসেছে। এতদ্বসত্ত্বেও নিয়মবহির্ভূত থেমে নেই বানিজ্যিকভাবে লাভের লক্ষ্যে তামাকজাত কোম্পানির সাথে জড়িতদের প্রচার প্রচারণা। সেই সাথে জড়িত রয়েছে দোকানী থেকে শুরু করে হকারও।
হাওর এলাকার কিশোরগঞ্জের অসংখ্য বাজার ও দোকান ঘুরে দেখা গেছে তামাকজাত দ্রব্যের পরিমাণ ও সেখানকার সেবনকারীদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। মানছে না অনেকাংশ তামাকজাত দ্রব্য বিষয়ের আইনকানুন ও নিয়মনীতি। তামাকজাত দ্রব্যের সাথে সংশ্লিষ্ট ধুমপায়ীর সংখ্যাও তুলনামূলক অনেকটা বাড়ছে।
হাওরাঞ্চলের এসব এলাকাতে শিক্ষিতের হারও তুলনামূলক কম থাকার কারণে এর কুফল সম্পর্কে সে সব এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে এর ক্ষতিকর প্রভাবের ধারণা কম। স্বাস্থ্য সচেতনতার ক্ষেত্রেও তারা পিছিয়ে রয়েছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে দায়িত্বে থাকাদের তদারকির অভাবের পাশাপাশি জনসচেতনতার অভাব। গ্রামের হাট বাজারে দেখা গেছে বিড়ি সিগারেট ও তামাক জাত দ্রব্যের কুফল সম্পর্কে প্রচার প্রচারণা কম। বিড়ি-সিগারেটের গায়ে ধূমপানের কুফল ও এই বিষয়ের সতর্কীকরণ লেখাটাও অনেক সময় অস্পষ্ট থাকে।
নিয়ম বহির্ভূতভাবে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন ও প্রচার প্রচারণার ক্ষেত্রে বাধানিষেধ থাকলেও গ্রামে গ্রাম্য এলাকায় এর বিপরীত দৃশ্য মিলে। অনেক দোকানে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি দৃষ্টিগোচরে রাখার নিয়ম থাকলেও বেশীরভাগ দোকানি তা আড়াল করে রাখে।
নিকলী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গুপিরায় বাজারে এক দোকানী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকারিভাবে ৫০ ভাগ সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি দেখিয়ে বিক্রি করার নির্দেশ থাকলেও ক’জনে তা মানে। এছাড়াও প্রচার প্রচারণা নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কোম্পানির লোকেরা সকল জনগণের দৃষ্টিতে আসে এমন জায়গায় বিড়ি-সিগারেটের স্টিকার লাগিয়ে থাকে। মানুষকে নিরুৎসাহিত না করে বরং উল্টো উৎসাহিত করে থাকে।
নিকলী উপজেলার জারই তলার ধনু নামের এক যুবককে জদ্দা দিয়ে পান খাওয়ার পাশাপাশি তাকে ধূমপান করতে দেখা গেছে একটি দোকানে। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তাকে এর উপকারিতা ও ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতেই বলেন, প্রকৃতপক্ষে ধূমপানে কোনো উপকার তিনি পাননি বরং ক্ষতি হচ্ছে বলে স্বীকার করেন। তবে এখন আর ছাড়তে পারছেন না বলেও স্বীকার করেন।
সচেতন মহলের ভাষ্যমতে, জনস্বার্থ সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি এই বিষয়ের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরার কোনো বিকল্প নাই।
নিকলী উপজেলার সেনেটারি ইন্সপেক্টর ও তামাক আইনে কতৃত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল বাতেন চৌধুরী বলেন, তামাকজাত দ্রব্য বিক্রির বিষয়ে তিনি সব আইন মেনে চলার নির্দেশ প্রদান করে থাকেন। সেই সাথে প্রকাশ্য ধূমপান না করার বিষয়ে এবং ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে আইনগতভাবে নিষেধাজ্ঞাও করে থাকেন বলে উল্লেখ করেন।
কিশোরগঞ্জ জেলার কর্তব্যরত সিভিল সার্জন ডা. অভিজিৎ শর্মাকে একাধিক ফোন করেও পাওয়া যায়নি। তবে নিকলী উপজেলা সদর হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সজিব ঘোষ বলেন, এমন কোনো রোগ নাই যা তামাকজাত দ্রব্য অর্থাৎ বিড়ি সিগারেটের কারণে হয়ে থাকে না। এক কথায় সিওপিডি, ব্রুন ক্রাইটিস, ব্রুন কিউট প্লেসিসসহ মুখ গহ্বরের অংশ বিশেষের জিহ্বা, মাড়িতে এবং গলায়সহ ফুসফুসে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে থাকে ডলে উল্লেখ করে। এক পর্যায়ে মানসিক ক্ষতির পাশাপাশি শারীরিক চিকিৎসার ব্যয়ভারও অস্বাভাবিক হয়ে থাকে বলে জানান।