নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ কিশোরগঞ্জের নিকলী বাজিতপুরসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ১৩ নভেম্বরের ঢাকার লকডাউনে যোগ দেওয়ার লক্ষ্যে চুপিসারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ফ্যাসিস্ট চক্র। চলছে বিভিন্ন স্থানে চুপিসারে গোপন মিটিং ও আলোচনা। স্থানীয় প্রশাসনের ভাষ্য, এই বিষয়টি তাদের মাথায় আছে এবং এই লক্ষ্যেই সতর্কতার সাথে তারা কাজ করে চলেছেন।
কিশোরগঞ্জ জেলা যুবলীগ নামীয় ব্যানারেও রাস্তায় সরকার বিরোধী বিক্ষোভ মিছিলের স্লোগান ধরতে দেখা গেছে ‘অবৈধ ট্রাইবুনাল মানি না, মানবো না’ শেখ হাসিনার কিছু হলে জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে। এমন ধরণের দুঃসাহসী সরকার বিরোধী স্লোগান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চোখ রাখতেই দেখা গেছে নিকলী উপজেলার জারইতলা ইউনিয়নের রোদার পুড্ডার ফ্যাসিবাদী নেতা শাহ মনিরুজ্জামান তরুণের ন্যায় অনেকেই তাদের ব্যক্তিগত ফেইসবুক পেইজেও তা ছড়িয়ে দিচ্ছে। ১০ নভেম্বর সকাল ৯ বাজে ৪৫ তরুণের ফেইসবুকেও এমনটি দেখা গেছে এমন ভিডিও ফুটেজের দৃশ্য। এছাড়াও একই ইউনিয়নের সাজনপুর দক্ষিণ হাটির ফ্যাসিবাদী সমর্থক শাহীনের ন্যায় অনেকেই তাদের ফেসবুকে লিখে চলেছেন ‘চলো চলো ঢাকা চলো ১৩ তারিখের লকডাউন সফল করো’ এছাড়াও বাজিতপুর উপজেলাসহ বিভিন্ন স্থানে এমন দৃশ্য মিলে।
স্থানীয় সচেতন মহলের ভাষ্যমতে, হাওরের প্রবেশদ্বার নিকলী-বাজিতপুরের বিক্ষিপ্ত স্থানে স্বার্থান্বেষী মহলের ফ্যাসিবাদী চক্রের সদস্যরা গত ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সরকার পতনের পর থেকেই পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে নানামুখী ষড়যন্ত্র লিপ্ত রয়েছে। দেশ-বিদেশের মাটিতে আত্মগোপনে থেকেও অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রোপাগান্ডাসহ উষ্কানি মূলক বিবৃতি প্রদান করে চলেছে। অনেকে মামলার আসামি সত্বেও কৌশলে পুলিশি হয়রানি থেকে মুক্ত অবস্থানে রয়েছে। কেউবা মামলার জটিলতা থেকে রেহাই পেতে অসাধু রাজনৈতিক ক্ষমতাধর নেতাকর্মীদের সুবিধা দিয়ে আর প্রলোভনের মোহে ফেলে তাদের আঁতাত করে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়াও গুঞ্জন রয়েছে অপরাধী এবং চিহ্নিত আসামিদের গ্রেফতারের বিষয়েও কিছু কিছু স্থানে, কিছু কিছু পুলিশ সদস্যের ঢিলেঢালা ভূমিকা নিয়ে। এক পর্যায়ে হাওরাঞ্চলের নিকলী-বাজিতপুরের এই তথ্যচিত্রকে বাংলাদেশের একটি খন্ড চিত্র বলেও উল্লেখ করা হয়।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নেপথ্যে থাকা ফ্যাসিবাদী দোসরদের ইন্ধনে ৫ আগষ্টের পর থেকে নিকলী,বাজিতপুর, অষ্টগ্রাম, ইটনা মিঠামইন, কটিয়াদী, কুলিয়ারচর, ভৈরবসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে চুরি ছিনতাই ও মাদকের তান্ডব লীলা বেড়েছে। চোর চক্রের সদস্যদের অধিকাংশরাই এখনো ফ্যাসিবাদী মহলের অনুসারী।
রাষ্ট্রবিরোধী আন্দোলনে জড়িত থাকাদের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে নিকলী থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী আরিফ উদ্দিন অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন। পাশাপাশি একজনকে এ ধরণের প্রস্তুতিমূলক কাজে জড়িত থাকার বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে গ্রেফতারও করেছেন বলে উল্লেখ করেন। সতর্ক অবস্থানে থাকার বিষয়ে উপর মহলেরও নির্দেশনা রয়েছে বলে স্বীকার করেন।
কিশোরগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী (বিপিএম) এর সাথে এই বিষয়ে কথা হলে তিনি বিচক্ষণতার সহিত বিষয়গুলো নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন বলে ইঙ্গিত প্রদান করেন।