নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ কিশোরগঞ্জ-৫, (নিকলী-বাজিতপুর) আসনে মনোনয়ন নিয়ে মিটিংয়েই নাসকতার হুমকি দিয়ে চলেছেন স্থানীয় বিএনপির একাংশের নেতারা!
কিশোরগঞ্জের নিকলী-বাজিতপুরে এক দিকে বাড়ছে মাদকের ভয়াল থাবায় চুর ডাকুসহ চাঁদাবাজদের তান্ডব লীলা, অপরদিকে বিএনপি নেতা-কমীরা একের পর এক দিয়ে যাচ্ছেন নাশকতার কঠোর হুঁশিয়ারি। নাসকতার আশঙ্কায় আতঙ্কে রয়েছে স্থানীয় জনসাধারণ।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে আনন্দের পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে ততই নিকলী-বাজিতপুরে ভীতির সঞ্চার হচ্ছে। সাম্প্রতিক নিকলী বাজিতপুরে যত বেশি গুঞ্জন উঠেছে জোটের প্রার্থীদের ঘিরে, ততই বেশি হুমকি ধামকি প্রদান করতে দেখা যাচ্ছে দলের পক্ষে অবস্থানকারী ব্যক্তি কেন্দ্রিক স্বার্থভোগী বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীদেরকে ঘিরে। এই পরিপ্রেক্ষিতে শান্তিপ্রিয় জনগণ বলে চলেছেন যারা জনগণের কল্যাণে রাজনীতি করে তারা কখনোই দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে দ্বিমত পোষণ করে না। রাষ্ট্রীয় ক্ষতি সাধনের ভাবনায় যারা ব্যক্তি কেন্দ্রিক দলীয় হিংসাত্মক মনোভাবের রাজনীতি করে তারাই শুধু সুবিধাভোগের নেশায় অপরাজনীতিতে মেথে থাকে। প্রকৃতপক্ষে অপরাজনীতির সাথে জড়িতরা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় অমঙ্গলেও মত্ত থাকে।
এই সব হিংসাত্মক অপরাজনীতির কারণেই সুবিধা নিচ্ছে ফ্যাসিবাদী চক্রের সদস্যরাও।
কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দলের মধ্যে কোনো ধরণের সন্ত্রাসীর, চাঁদাবাজের এমনকি মাস্তানদের স্থান নেই। কেন্দ্রীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা বিভিন্ন সময়ে এমন নির্দেশনামূলক বক্তব্য দিয়ে গেলেও নাশকতার জন্মদাতা হিসেবে স্থানীয় নেতারা হুমকি ধামকি অব্যাহতের মধ্যে দিয়ে বহাল তবিয়তেই রয়েছেন! ব্যক্তি কেন্দ্রিক অপরাজনীতিতে মেথে থাকা অসংখ্য নেতাকর্মীদের এসব ভিডিও নিয়েও হচ্ছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা।
এদের মধ্যে দেখা গেছে নিকলীর উপজেলার ছাতিরচর ইউনিয়নের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার পরশ মাহমুদ ২৯ অক্টোবর সন্ধ্যার দিকে তার নিজের এলাকায় বাজার ও নদী ঘাট সংলগ্নে ৩১ দফা গণসংযোগ ও মতবিনিময় সভা চলাকালে তার বক্তব্যের পছন্দের প্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের পক্ষে গুণকীর্তন করতে শোনা গেছে। এক পর্যায়ে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালকে ছাড়া যদি অন্য কাউকে মনোনয়ন দিয়ে দল ভুল সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে এবার আর রেল পথে নয় বরং নৌ পথ ব্লক করে দিবেন। এমন কঠোর বাক্যে হুঁশিয়ারি প্রদান করেন! তাছাড়া ইকবাল সাহেব ঢাকা থেকে নিমিনেশন নিয়ে এলেই নৌপথ ছাড়বেন বলেও উল্লেখ করেন।
এ সময়ে পরশকে একাধিকবার ১২ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও জাতীয় দলের চেয়ারম্যান, এহসানুল হুদার মনোনয়ন বিষয়ে এমনকি তার দলের বিষয়েও মন্তব্য করতে শোনা গেছে।
এছাড়াও নিকলী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আতিকুল ইসলাম তালুকদার (হেলিম)কেও ২৭ অক্টোবর ইকবালের পক্ষে ৩১ দফা গণসংযোগ ও মত বিনিময় সভা চলাকালীন সময়ে স্পষ্ট ভাষায় বলতে শোনা গেছে, ‘ইকবাল ভাই ছাড়া নিকলীতে কোনো আল বদর, রাজাকার, দোসরকে ঢুকতে দেয়া হবে না’
এছাড়াও বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির বলেন, যুবদলের ৪৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে নিকলী-বাজিতপুরে ইকবাল ভাই ব্যতীত অন্য কাউকে নির্বাচন করতে দেয়া হবে।
বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আমিনুল হকও স্পষ্ট ভাষায বলে দিয়েছেন, ইকবাল সাহেবকে ছাড়া অন্য কাউকে মনোনয়ন দিলে লাল কার্ড দেখাবে, লাল কার্ড দেখিয়ে তাকে বের করে দেয়া হবে। অপরদিকে জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি এডভোকেট শাহ আলমকে এক সভায় বলতে শোনা গেছে, তার নেতা তারেক রহমান গত ২২, অক্টোবর, ২০২৪ সালের চিঠিতে স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছেন, বাজিতপুর-নিকলীতে যারা আছেন, জনাব তারেক রহমানকে যারা ভালোবাসেন, শহীদ জিয়ার আদর্শকে ভালোবাসেন, দেশ মাতা বেগম খালেদা জিয়াকে ভালোবাসেন, তারা সকল কাজে এহসানুল হুদাকে জনসংযোগসহ সার্বিকভাবে সহযোগিতা করবেন। যারা প্রকৃত জিয়ার সৈনিক তারা মাথানত করতে শিখে নাই, তিনি বিএনপি করেন বলে উল্লেখ করেন।
তাছাড়াও বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতাকর্মীদের বলতে শোনা গেছে ইকবাল ব্যতীত অন্য কাউকে বিএনপির মনোনয়ন দিলে নৌপথ, রেলপথ ও আঞ্চলিক মহাসড়কের রাস্তা ব্লক করে দেয়া হবে। এ সকল হিংসাত্মক মনোভাবাপন্ন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভিডিওর বক্তব্য এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ভাইরাল।
কিশোরগঞ্জের জেলা বিএনপির সভাপতি ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল আলমকে ১২টার পরবর্তীতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার সাথে যোগাযোগ সম্ভব হয়ে উঠেনি।