কিশোরগঞ্জের নিকলীর আরেক অনিয়মের রাজত্বের যুবরাজ কারার শাহরিয়ার আহম্মেদ তুলিপের গ্রেফতারের বিষয়ে স্থানীয় মহলে ব্যাপক তোলপাড়। গত ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর থেকে গ্রেফতার আতঙ্কে এলাকা ছেড়ে পালাতক থাকলেও অবশেষে ঢাকা থেকেই ডিবি পুলিশের হাতে ঢাকার একটি বিশেষ মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন বলে জানা গেছে।
নিকলী থানা পুলিশের ভাষ্য, সেখানকার মামলায়ও তাকে শোন এরেস্ট দেখানো হবে। এক পর্যায়ে তুলিপ নিকলী বাজিতপুরের অনিয়মের রাজত্বের রাজা সাবেক আওয়ামীলীগের স্থানীয় সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনেরও অত্যন্ত কাছের লোক বনে যান। এছাড়াও আওয়ামীলীগের বিভিন্ন অসাধু রাজনৈতিক ব্যক্তি থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন মহলের নেতাকর্মীদের সাথেও গড়ে উঠে বিভিন্ন ধরণের সম্পর্ক। সেই সুবাদে স্থানীয় পর্যায়ে তার প্রভাব আরও সুদৃঢ় হয়ে উঠে। চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়েও অসংখ্য গণমাধ্যমে তার নানাবিধ অনিয়মের বিষয়ে উঠে আসে। এছাড়াও উঠে আসে ক্ষমতা থাকাকালীন সময়ের মামলা মোকদ্দমার চিত্র।
হাওরের যুবরাজ নামধারী সাবেক নিকলী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কারার শাহরিয়ার আহম্মেদ তুলিপকে গত ৩ সেপ্টেম্বর বুধবার দিবাগত রাতে ঢাকার তেজগাঁও জুন থেকে ডিবি পুলিশের একটি টিম গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে স্থানীয় বিভিন্ন মহলে এ নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়।
এই বিষয়ে নিকলী থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী আরিফ উদ্দিন স্বীকার করেছেন তার নামে নিকলী থানায়ও মামলা এবং গ্রেফতারী পরোয়ানা থাকার বিষয়ে। নিকলী থানার (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিন এই বিষয়ে তাৎক্ষণিক সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলতে পারেননি ঢাকায় কোন ধরণের মামলায় আটক হয়েছেন আর কিভাবে কয়টায় আটক হয়েছেন। তবে ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পাশাপাশি আসামিকে নিকলী থানায় নিয়ে আসা হবে কি না এমনটি তার কাছে অনেকটা অস্পষ্ট।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে তুলিপ সাবেক সদরের চেয়ারম্যান কারার বোরহান উদ্দিনের জৈষ্ঠ্য সন্তান। পিতার মৃত্যুর পরবর্তীতে চেয়ারম্যান এবং ছাত্রলীগের সভাপতি থাকাকালীন সময়ে নানাবিধ অনিয়মের মাধ্যমে দলীয় কৌশলিক কায়দায় নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক বনে গেছেন। তুলিপের রাজনৈতিক জীবনে পা রাখার পরবর্তী পর্যায়ের সকল দৃশ্যমান আয়ের খাতের সাথে বৈষম্যের বিষয়েও সীমাহীন গুঞ্জন রয়েছে স্থানীয় সর্বমহলে। সচেতন মহল থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহলেও সমালোচনা বিরাজমান দীর্ঘদিন থেকেই তার স্থাবর অস্থাবর অর্জীত সম্পদ নিয়ে। হাওর থেকে শুরু করে একাধিক বাড়ি-গাড়ির মালিক বনে যাওয়াকে কেন্দ্র করে অনেককেই বলতে শোনা গেছে আলাদীনের চেরাগ হাতে পান যখন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যোগদান করেন আর পিতার মৃত্যুর পরবর্তীতে চেয়ারম্যানের স্থান লাভ করেন। চেয়ারম্যান গেষ্ট হাউজের স্বত্বাধিকারী তুলিপের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত হলে তার সকল অনিয়মের তথ্য উঠে আসবে বলেও স্থানীয়দের দাবি। এমনকি দৃষ্টান্তমূলক বিচারেরও দাবি জানান তাদের অনেকেই।