টানা-৩২ বছরের ইউনিয়ন সভাপতি, চেয়ারম্যান ৪ বার
আলি জামশেদঃ নিকলীতে আওয়ামীলীগের প্রবীণ নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান আজমল হোসেন কিশোরগঞ্জের এক নাসকতার মামলায় নিজ বাড়ী থেকে গ্রেফতার হয়েছেন। এ ঘটনার পর থেকে আওয়ামীলীগের যে সকল আসামি তথা নেতারা বিএনপির স্থানীয়দের সাথে আঁতাতে বাড়ি ফিরেছিলেন তাও ভোর হতে না হতেই বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলা জারইতলা ইউনিয়নের টানা ৩২ বছরের ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মানিত সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের ৪ বারের চেয়ারম্যান আজমল হোসেন আফরোজ গত ৩ জুন দিবাগত রাত আনুমানিক ২ টার দিকে সদরের এক নাসকতা মামলায় তাকে তার নিজ বাড়ীর জারইতলার রসুলপুরের বাসা থেকে নিকলী থানা পুলিশের সহায়তায় সদর থানা পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার হয়। গ্রেফতার পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট নিকলী থানাতে নিয়ে যাওয়া হলে সেখান থেকে সকালের দিকে জেলা কারাগারে তাকে প্রেরণ করা হয় সংশ্লিষ্ট আদালতের মাধ্যমে।
জানা গেছে আজমল হোসেন গত ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পরবর্তীতে ঢাকার এক মামলাসহ কিশোরগঞ্জের গ্রেফতারকৃত এ মামলার আসামি হন। তবে ঢাকার মামলা থেকে ইতিপূর্বে তার অব্যহতি মিলেছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও জানা গেছে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি গ্রেফতার এড়ানোর লক্ষ্যে ঢাকা শহরেই আত্মগোপনে ছিলেন। সবশেষ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকেও সরে যান ২০২৪ সালের আগষ্টের শেষের দিকে। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর সেখানকার প্যানাল চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে থাকা ইউপি সদস্য ইসহাক রানা। যদিও পরবর্তীতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে দল তাকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্ব মুহূর্তে বহিষ্কার করেন। দায়িত্ব পালন পরবতীতে তিনিও নানান দিক থেকে কিছুটা সমালোচনার মুখে পড়েন।
গ্রেফতার প্রসঙ্গে আজমল হোসেন আফরোজের পরিবার ও স্বজনদের সাথে কথা হলে জানা গেছে তাকে পরিকল্পিতভাবে নাশকতার রাজনৈতিক মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তাছাড়াও ঈদের পূর্বে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ করেই তিনি বাড়ি এসেছিলেন বলে উল্লেখ করেন। নানা কারণে রাজনীতির সাথে তিনি আর সম্পৃক্ত থাকবেন মর্মে স্থানীয় বিএনপির একাংশের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সাথে যোগাযোগ রেখেই তিনি ছিলেন। সর্বশেষ আবার তাদের চক্রান্তেই অনেকখানি গ্রেফতার হয়েছেন বলেও দাবি তোলেন স্বজনেরা।
নিকলী থানার অফিসার ইনচার্জ মাহবুবুর রহমান এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগের এ নেতার বিরুদ্ধে নিকলী থানায় মামলা না থাকলেও জেলা সদরের এক রাজনৈতিক নাশকতার মামলায় সেখানকার থানা পুলিশের পাশাপাশি নিকলী থানা পুলিশের সহযোগিতায় রাত আনুমানিক ২টার দিকে গ্রেফতার করা হয়।