নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ দীর্ঘদিনের নির্যাতনের শিকার বাংলাদেশের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)কে ঘীরে রয়েছে সীমাহীন আলোচনা। পাশাপাশি এ দলের কিছু সংখ্যক নেতাকর্মীদের ঘীরে সমালোচনাও রয়েছে অনেক ক্ষেত্রে। গত ২০২৪ সালের রক্তঝরা আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে অন্তবর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় থাকলেও বাস্তবতার নিরিখে স্বপ্ন বুনে চলেছেন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতায় আসার লক্ষ্যে।
ক্ষমতায় আসার উদ্দেশ্য দলের গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়াও অবকাঠামোকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে জেলা উপজেলা এবং ইউনিয়ন এমনকি ওয়ার্ড পর্যায়েও ইলেকশন ও সিলেকশনের মাধ্যমে নেতাকর্মী যাচাই-বাছাই কার্যক্রমও চালিয়ে আসছে দীর্ঘদিন থেকে। কিশোরগঞ্জের নিকলীও তার ব্যতিক্রমী নয়। নিকলীতে নেতা নির্বাচনের বিষয়ে নানান সমালোচনার জন্ম হয়েছে শুধু থেকেই। এমনকি লিখিত অভিযোগও হয়েছে দফায় দফায় নেতাকর্মী নির্বাচনের বিষয় নিয়ে। প্রতিকার না পাওয়ায় অন্তর্দ্বন্দ্ব এখন চরমে বলেও অভিহিত করেছেন স্থানীয় নেতা-কর্মীদের একটি অংশ। নিকলীতে বর্তমান জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও থানা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট বদরুল মোমেন মিঠুর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী একাধিক থাকলেও সাবেক ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক শফিকুল ইসলাম রাজন মিয়ার একটি শক্তিশালী গ্রুপ শক্ত অবস্থান রয়েছেন বলে সরেজমিনে উঠে এসেছে। এছাড়াও নিকলী বাজিতপুরে সার্বিক দিক বিবেচনায় শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা কমিটির সহ-সভাপতি এবং বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল। ইকবাল সমর্থক নেতাকর্মীরাও সার্বিক পরিস্থিতির সব দিক মিলে দৌড়ঝাঁপে এগিয়ে। এমনকি এহসানুল হুদাসহ মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সবারই লবিং এবং গ্রুপিংয়ের দৃশ্য চোখে পড়ার মতোই। দলীয় গ্রুপিংয়ের দৃশ্য যেমন চোখে পড়ে তেমনি দলীয় সুবিধা বঞ্চিতের চিত্রও উঠে আসে।
স্থানীয় অসংখ্য নেতাকর্মীদের সাথে কথা হলে তাদের অধিকাংশেরই অভিমত দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত হলেই এসব গ্রুপিং কমে আসবে। এছাড়াও তারা যুক্তি তুলে ধরে আরও বলেন গ্রুপিং যুগে যুগে ছিলো আছে থাকবেই। তবে সাম্প্রতিক নিকলীতে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ির কথা স্বীকারে বলেন, এ বাড়াবাড়ির কারণেই সুবিধা নিচ্ছেন স্থানীয় আ’লীগ নেতাকর্মী এমনকি সমর্থকরাও।
স্থানীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে কর্মী সমর্থকদেরও একটাই অভিমত মামলা মোকদ্দমা থেকে শুরু করে বিচারের লক্ষ্যে বেশীরভাগ ক্ষেত্রে যখনি একটি পক্ষ কাউকে সাপোর্ট দিয়ে থাকেন বিপরীত পক্ষ ভালোমন্দ যাচাই-বাছাই ছাড়াই সেই পক্ষের বিপরীতে অবস্থান নেন। গুরই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু তাহের একান্ত সাক্ষাৎকারে আফসোসের সুরে উল্লেখ করে বলেন, নিকলীতে দলীয় দ্বন্দ্ব চরমে থাকায় নিকলী থানা বিএনপির সভাপতি ও সেক্রেটারির কাছে আশ্রয়ের সুযোগ পান গুরইয়ের সামসুল হকের মতো অসাধু আওয়ামীগ নেতাকর্মীরাও। অবৈধ উপায়ে থানায় সুবিধা নিতেও চেষ্টা চালিয়ে বেড়ায় একমাত্র দলীয় দ্বন্দ্বের কারণেই। এমন অভিযোগ অসংখ্য দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে।
নিকলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি বদরুল মোমেন মিঠুরকে ২৬ জুন বৃহস্পতিবার বিকালে একাধিকবার মুঠোফোনে কথা বলার লক্ষ্যে চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
নিকলীর দলীয় গ্রুপিংয়ের বিষয়ে দীর্ঘ সময়ের নিকলী থানা বিএনপির সভাপতি মরহুম বীরবিক্রম মতিউর রহমানের একমাত্র জামাতা শফিকুল ইসলাম রাজন তার শশুর থাকাকালীন সময়ের গ্রুপিংমুক্ত দলের প্রশংসনীয় দিক উল্লেখ করে বলেন, তৎকালীন সময়ে দলকে সুশৃঙ্খলভাবে একটি প্লাটফর্মে তার শশুর ধরে রেখেছিলেন। বর্তমানে যারা সেই অবস্থানে রয়েছেন তারা আওয়ামীলীগের ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনের চেষ্টায় লিপ্ত থাকার পাশাপাশি নানাবিধ অনিয়ম বানিজ্যে জড়িত। এদের অতীত ইতিহাসও দলের মধ্যে বিতর্কিত অবস্থানে। তাদের নেতৃত্বে ত্যাগী ও যোগ্যরা হচ্ছে অধিকার বঞ্চিত। ফলে এসব গ্রুপিং ভবিষ্যতের জন্যে স্থানীয়ভাবে দলে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত করেন।
শেখ মজিবুর রহমান ইকবালকে তার একাধিক নাম্বারে ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে এক পর্যায়ে তার ভাই পরিচয়ে কোন একজন ব্যক্তি রিসিভ করে কথা বললেও ইকবাল ব্যস্ত আছেন বলে উল্লেখ করেন।
নিকলী থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী আরিফ উদ্দিন এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, দলে গ্রুপিং থাকবে এটাই স্বাভাবিক। আইনি বিষয়ে সুপারিশও একাধিক মহল থেকে আসতেই পারে। এমনকি এসেও থাকে। তবে সেক্ষেত্রে আইনগত দিক থেকে যা বৈধ তারা সেই দিকটাকেই বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে থাকেন বলেও উল্লেখ করেন।