• শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০১:৩০ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও গুলির ঘটনায় সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের নামে মামলা নিকলীতে প্রবীণ আওয়ামীগ নেতা ও সাবেক ৪ বারের চেয়ারম্যান আজমল হোসেন গ্রেফতার  আবহাওয়ার আমূল পরিবর্তনের ফলে হাওরের জীববৈচিত্র্য, মৎস্যসম্পদ ও জনজীবনে চ্যালেঞ্জ      হাওরে প্রবেশদ্বার এলাকায় দস্যুদের তাণ্ডব: শিশুকে হত্যা হুমকিতে লুটে নেয় আড়াই লক্ষাধিক টাকা হাওরাঞ্চলের চামড়া অধিকাংশ মাদ্রাসা ও এতিমখানায় আর অনেকে পুঁতে রাখাসহ নদী ও ডোবানালায় ফেলেছেন নিকলী-বাজিতপুরে বিএনপিতে বিভক্তি, সুবিধা নিচ্ছে আ’লীগ মুষলধারে বৃষ্টিতেও শোলাকিয়ায় ঈদের নামাজীর ঢল ঐতিহ্য, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনজীবনের প্রাণকেন্দ্র বাজিতপুর বাজার বাজিতপুরে যুবকের ওপর হামলার অভিযোগ, মুখে ২৪ সেলাই ‘জাকির ভাই আমাকে জীবন ভিক্ষা-দে’ হত্যার সময়ে কুলিয়ারচরে ব্যবসায়ীর আকুতি, গ্রেফতার-৫ কিশোরগঞ্জে ইপিআই টিকার ঘাটতি, উদ্বেগ বাড়ছে কাঙ্খিত স্বাস্থ্য সেবায়, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে মা ও শিশু 

নিকলী-বাজিতপুরে বাড়ছে অপরাধ, আইনশৃঙ্খলার তৎপরতা প্রশ্নবিদ্ধ

Reporter Name / ৭১৩ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৫

নিকলী-বাজিতপুরে অপরাধ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ মাদক 

বিশেষ প্রতিবেদনঃ নিকলী-বাজিতপুরে বাড়ছে অপরাধজনীত কর্মকাণ্ড। সেই সাথে বাড়ছে অপরাধীদের অপরাধের প্রবণতা। স্থানীয়রা দায়ী করে চলেছেন আইনশৃঙ্খলার তৎপরতার অভাবের পাশাপাশি রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও সামাজিক অসচেতনতাকে। অনুসন্ধানে মূল কারণ হিসেবে উঠে আসে মাদক, জুয়া ও অসামাজিক কার্যকলাপের বিষয়। তবে নিকলী উপজেলা প্রশাসনের ভাষ্যমতে, অপরাধ বাড়লেও নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে তারা যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

কিশোরগঞ্জের নিকলী, উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ৭টি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে আর বাজিতপুরের ১১টি ইউনিয়নসহ পৌর সভার বিভিন্ন স্থানে চলে মাদকের তাণ্ডবলীলা। অপরাধীদের দৌরাত্ম্যে উভয় উপজেলার বিভিন্ন স্থান এখন অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়ে উঠেছে। যে কারণে অপরাধীদের দৌরাত্ম্যের এ সব স্থানে সাধারণ জনগণ প্রতিবাদেরও সাহস দেখায়নি। মাদক কারবারিরা গড়ে তুলেছে শক্তিশালী চক্র। এসবের জন্যে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলার তদারকির অবহেলাকেই অনেকেই দায়ী বলে মনে করছেন অনেকে। সেখানকার ইয়াবার কালো ছোবলে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে যুব সমাজ। মাদকের কারণেই বাড়ছে অধিক অপরাধ। চুরি, ছিনতাই ও নারী ঘঠিত বিষয়ের অসামিজিক কার্যকলাপের ঘটনাও ঘটে চলেছে অহরহ। বর্তমানে ইয়াবার ছোবলে পড়েছে উঠতি বয়সের তরুণ-তরুণী ও শিশু কিশোরেরা। স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মাঝেও এর কুপ্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। এর ফলে ৫ আগষ্টের পর থেকে তুলনামূলক বেড়েছে বাজিতপুরের সরাররচর-হিলোচিয়া, পিরিজপুর এবং উজানচরসহ একাধিক রাস্তায় ডাকাতির ঘটনা। ঘটে চলেছে নিকলী বাজিতপুর, অষ্টগ্রামের একাধিক নৌপথেও ডাকাতিসহ চাঁদাবাজির ঘটনা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এসবের মূলে রয়েছে সর্বনাশা মাদক নেশার ছোবল। মাদকের কারণে সামাজিক দ্বন্দ্ব কলহও তুলনামূলক বেড়েছে। সংসার বিয়োগের ঘটনাও অধিক পরিমাণে ঘটে চলেছে। এটি বর্তমানে হাওরের প্রবেশদ্বার দুই উপজেলাতে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এসব স্থান এখন অপরাধীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। শীতে এর প্রকোপ তীব্রতায় রূপ নেয়।

নিকলীর জারইতলাঃ নিকলীর জারইতলাঃ সাম্প্রতিক গরু চুরি, রাতের আঁধারে সিধকেটে ভয়াবহ চুরির ঘটনা এখন নিত্যনৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। জারইতলা রাস্তার পাশে ২৯ অক্টোবর রাত প্রায় ৪ টার দিকে কাছাকাছিতে গানের অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ে বাসেদের বসতঘরে ঘরে সিধকেটে ঢুকে ৩ জনের হাত-পা বেঁধে মারধর করে। এ সময় কাপড় দিয়ে মুখে চেপে ধরে ধারলো অস্ত্রের মুখে জামাকাপড়, নগদ টাকার পাশাপাশি ৪ লাখ টাকা মূল্যের বীজ প্রদানের ২টি ষাড় গরু পিকআপে উঠিয়ে নিয়ে যায়। সকালে ডাক চিৎকার শুনে পথচারীরা এসে বাঁধন খুলে দেন। নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা বাসেদ ৫ বছর ধরে স্থানীয় রাসেলের বন্ধকী জায়গায় থাকেন। বাসদ এখন আইনের সহযোগিতা কামনা করেন।

৩০ অক্টোবর আঠার বাড়ীয়ার সিঙ্গার পাড়ার সিদ্দিকের সেচ মেশিন নিয়ে গেছে। পরদিন ৩১ অক্টোবর একই এলাকার সাইদুর ঘরে চুরি হয়। এছাড়াও পাশ্ববর্তী এলাকার আঠার বাড়িয়া এলাকার মুতালিব জানান, গত ২৫ অক্টোবর দিবাগত রাতেও তার ৩ লক্ষাধিক টাকার ৩টি গরু ঘোয়াল ঘরের তালা ভেঙ্গে নিয়ে গেছে। আগের দিন রাতে এই এলাকার প্রবাসী ফারুকের ঘর থেকে তার স্ত্রীর দুটো অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল নিয়ে গেছে। পাশের বাড়ির নসর উদ্দিনের ঘরে চুরি হয়েছে। মোটর সাইকেল চুরি থেকে শুরু করে হাওরের সেচ মটর, অটোরিকশা চুরির ঘটনা অহরহ ঘটেই চলেছে। চোর-ডাকুরা যখনি জনতার হাতে ধরা পড়ে তখনি গণপিটুনি শেষে অসংখ্য সাঙ্গপাঙ্গদের নামও বলে থাকে। প্রভাবশালী গোত্রের হলেই যেনো অনেকখানি থমকে যায় তাদের বিচার! বিচার বহির্ভূত এসবের মূলে দেখা যায় স্থানীয় প্রভাবশালীদের কালোহাত। জারইতলার সাজনপুর ও আঠার বাড়িয়া এলাকায় এই নিয়ে মানববন্ধন করতেও দেখা গেছে ৫ আগষ্টের পরবর্তীতে একাধিক সময়। জারইতলার রসুলপুর-সাহাপুর, সাজনপুর-আঠার বাড়িয়া ও রোদার পুড্ডায় এখন মাদক বিক্রির নিরাপদ স্পষ্ট। এছাড়াও সংলগ্ন কটিয়াদীরের করগাঁও পাছলী পাড়ায় চলে রমরমা এই ব্যবসা।

তিরচরঃ হাওর দ্বীপের সৌন্দর্যমণ্ডিত পর্যটন স্পষ্ট ছাতিরচরের যুব সমাজ জর্জরিত সর্বনাশা মাদকের ছোবলে। গোগ্রাসে গিলছে সেখানকার তরুণ-যুবা। প্রতিবাদীর ভূমিকায় থাকা সেখানকার জাকির হোসেন বলেন, অত্র এলাকার সচেতন মহল বেশ কিছুদিন আগেও মাদকবিরোধী মানববন্ধন করেছে। তৎসত্ত্বেও থেমে নেই সেখানকার মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের তান্ডব লীলা। সেখানকার বালুচরে এবং পূর্বপাড়া মসজিদের পশ্চিম পার্শ্বের বেড়িবাঁধ সংলগ্নে চলে এ ব্যবসা। স্থানীয়রা এই বিষয়ে আইনি হস্তক্ষেপ কামনা করেও ব্যর্থ হচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন। এক পর্যায়ে স্থানীয় প্রশাসনের রহস্যময় ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

গুরইঃ শিবির পাড়া মাদকের একটি আলোচিত নাম। গুরই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহেরের ভাষ্যমতে, এই গ্রামের একাংশ যুবক এখন ইয়াবা নামক ভাইরাসে আক্রান্ত।

নিকলী সদরঃ উপজেলা সদরের মহরকোনা এলাকায় স্থানীয়রা মাদকসহ অপকর্মের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিকও নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। সদরে মাদকের একাধিক কিশোর গ্যাংও রয়েছে। মাদককে কেন্দ্র করে একাধিক হোটেলে চলে অসামাজিক কার্যকলাপ। তবে নতুন বাজার ও পার্শ্ববর্তী কলেজের আশেপাশের রাস্তায় সতর্কতার সহিত চলায় এব্যবসা।

দামপাড়াঃ এখানকার দামপাড়া নতুন ব্রিজের গোঁড়ায় এবং কমিউনিটি ক্লিনিকের কাছাকাছিতে ইয়াবার ছড়াছড়ি।

কারপাশাঃ এই ইউনিয়নের মজলিশপুরের ফকির বাড়িতে ইয়াবার উৎপাতের পাশাপাশি পাহাড় খাঁন ওরফে কানাইভিটাতেও জমে টুকিটাকি গাঁজার আসর।

সিংপুরঃ বর্ষা মৌসুমে সিংপুরের নৌপথকে অধিক নিরাপদ ভেবে থাকে মাদক কারবারিরা। নৌপথে চলতি মৌসুমে বেশ কিছু কারবারিকে মাদকসহ আটকের চাঞ্চল্যকর ঘটনার তথ্যও উঠে এসেছে ইতিপূর্বে। শুকনো মৌসুমে সিংপুরের পরিত্যক্ত হাওরে আর ভুট্টার জমিতে চলে এ ব্যবসা।

পৌরসভাঃ বাজিতপুরের জনবহুল পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও চলে দেদারসে মাদক বিক্রি। এখানকার একাধিক মেথরপট্রি এলাকা থেকে শুরু করে মিরারবন, দড়ি ঘাগটিয়া এবং মতরাপুর এলাকায় চলে এ ব্যবসা।

হিলোচিয়া ইউনিয়নঃ বাজিতপুরের গুরুত্বপূর্ণ হিলোচিয়া বাজারের ছাতিরচর ঘাট, রিপন মিয়ার ওয়াকসপের স্থানে, বর্মাইপাড়া, সাতুঢা, বালি গাঁও ও নোয়াগাঁওয়ে চলে দিব্যি এ ব্যবসা।

সরারচর ইউনিয়নঃ সরারচর রেলস্টেশন এলাকায় এবং বাজারের উত্তর দিকের জনতা ব্যাংকের পিছন থেকে একেবারে ফাজিল মাদ্রাসার পিছনের রাস্তাতে এর তান্ডব লীলা পরিলক্ষিত হয়।

হালিমপুরঃ ইউনিয়নের ধূবীপাথর এলাকায় মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের সংখ্যা তুলনামূলক অনেক বেশি।

পিরিজপুরঃ আলোচিত সেই ইউনিয়নের বাংলা বাজার এলাকায় এবং পিরিজপুর বাজারের আশেপাশে চলে এ ব্যবসা।

দিলালপুরঃ এখানকার বাজার এলাকার নৌঘাটে ও জেলে পাড়ায় চলে রমরমা এ ব্যাবসা।

মাইজচরঃ বদ্বীপ ন্যায় মাইজচর এলাকার নৌপথের পাশাপাশি দক্ষিণ পাড়ায়ও চলে মাদক ব্যবসা।

দিঘীরপাড়ঃ বাজিতপুরের গুরুত্বপূর্ণ পাটুলিঘাটে নৌপথে বিদেশি মাদক থেকে শুরু করে ইয়াবার ব্যাপক ছড়াছড়ি। এছাড়াও এখানে নৌপথে চলে চাঁদাবাজি।

হুমাইপুরঃ অত্র ইউনিয়নের আলোচিত নৌ ঘাটে নেতাদের চাঁদাবাজির পাশাপাশি এখানেও চলে মাদক বিক্রি।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, খোঁজ নিলেই ধরা পড়বে কারা মাদকের সাথে জড়িত। এছাড়াও রয়েছে স্থানীয় প্রশাসনিক দপ্তরে সকল অপরাধীদের বিবরণ। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্যে আইনি হস্তক্ষেপের বিকল্প নেই বলেও উল্লেখ করেন স্থানীয়রা।

বাজিতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মুরাদ হোসেনকে ঘিরে অপরাধজনীত সকল কর্মকাণ্ডের বিষয়ে রয়েছে ব্যাপক আলোচনা এবং সমালোচনা। তবে এই বিষয়ে বাস্তবতা জানার লক্ষ্যে ২৬ অক্টোবর সকাল ১১টার দিকে এমনকি একাধিক সময়ে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

নিকলী থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী আরিফ উদ্দিন এক প্রশ্নের জবাবে নিকলীতে সাম্প্রতিক মাদকসহ নানাবিধ অপরাধ বেড়েছে বলে স্বীকার করেছেন। তবে তিনি থানার একজন এসআই এর মাধ্যমে সাজনপুরের জুয়ার বোর্ড থেকে নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাসে প্রতি রাতের টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। অপরাধ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে তিনি সবোর্চ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও দাবি করেছেন।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd