নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ মামলা মোকদ্দমা ও লেখালেখির ভয় দেখিয়ে আর উর্ধ্বতনদের সাথে সম্পর্কের কথা বলে কৌশলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন সাংবাদিক পরিচয়ধারী কুখ্যাত আকাশ মাহমুদ।
হাওর বেষ্টিত কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার বদ্বীপের ন্যায় ছাতিরচর গ্রামে জন্ম নেওয়া এক নামধারী এক ভয়াবহ অপসাংবাদিকের নাম আকাশ মাহামুদ। এলাকার মানুষ তাকে বাছাল ও টাউট আক্কাস আলী পরিচয়েই চিনে থাকেন। শান্তিপ্রিয় এলাকাবাসী তাকে ছোট বেলা থেকেই অনেকখানি ঘৃণার দৃষ্টিতে দেখেন। যুগের বিবর্তনে তার নামও পরিবর্তন করে আকাশ মাহামুদ নামে রূপান্তরিত হয়েছে। এমনি তথ্য নিশ্চিত করেছেন তার পরিবারের অসংখ্য ভুক্তভোগী সদস্যসহ একাধিক সূত্র।
একাধিক জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে স্থানীয় জনসাধারণের দেয়া তথ্যমতে, ২১ বছর আগে পৈতৃক সকল জমিজমা ও বসতভিটা তার ভাই ও স্থানীয় স্বজনদের কাছে বিক্রি করে ঢাকাতে ভিন্ন ভিন্ন বাসায় অবস্থান করেন। সরলতার সুযোগে কিছু সম্পতি রেজিষ্ট্রি বিলম্বের কারণে সর্বোচ্চ মহলের নেপথ্যে থাকা ফ্যাসিস্টদেরকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক সুবিধাসহ নানামুখী ফায়দা লুটার চেষ্টা এখনো চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গুঞ্জন রয়েছে তিনি ফ্যাসিবাদী দোসরের অসংখ্য নেতাকর্মী ও উর্ধ্বতন আমলাদের অনৈতিকভাবে কাজে লাগিয়ে বিগত সময়ে নানামুখী প্রতিশোধ নিয়েছেন। বিনিময়ে হাতিয়ে নিয়েছেন বিপুল পরিমাণ টাকা। এখনো সেই চেষ্টাতে অব্যাহত বলে অসংখ্য ভুক্তভোগীর অভিযোগ।
অর্থের নেশায় তিনি সদা মাতোয়ারা থাকেন। টাকার জন্যে তিনি অনেক সহজ-সরল মানুষকেও মামলা মোকদ্দমার জালে জড়িয়ে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তার বড় ভাই ছাতিরচর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি হারুন অর রশিদ বাচ্চু এবং ভাস্তে যুবদল সদস্য শিপনকেও ২০২৩ সালে সাজানো মামলা দিয়ে হাজতে প্রেরণ করে। এছাড়াও ২০১৮ সালে কামরাঙ্গীরচরে অবস্থানরত ছাতিরচর দক্ষিণ হাটির মৃত হানিফ মিয়ার ছেলে বোরহান মিয়াকেও কৌশলে সাজানো মামলা দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করে।
জানা গেছে সাবেক ছাতিরচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সদস্য হানিফ ইসলাম অসংখ্য লোককে তিনি সাজানো মামলা দিয়ে হয়রানি করেন।
ছাতিরচরের বাচ্চু মিয়া আক্ষেপের সুরে বলেন, আক্কাসের বসতভিটা জমিজমা দীর্ঘ ২১ বছর আগে বিক্রি করে ঢাকায় চলে গেলেও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ২০২৩ সালে পর্যায়ক্রমে ৭টি সাজানো মামলা দিয়ে ১৪ জনকে হয়রানি করে। দফায় দফায় সালিস বৈঠক হলেও সাংবাদিক দম্ভে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখায়। এছাড়াও এলাকাবাসীসহ বিভিন্ন মহলের লোকেরা তার কারণে অতিষ্ঠের কথা উল্লেখ করে বলেন, আক্কাসের দায়ের করা মামলাগুলো সাজানো বলে বিজ্ঞ আদালতেও পর্যায়ক্রমে প্রমাণিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, গণমাধ্যমের দোহাই দিয়ে আক্কাস নিয়মিত চাঁদাবাজিসহ নানামুখী ফায়দা লুটে চলেছেন। ভাই বলে সত্যিটা লুকিয়ে রাখলে এলাকাবাসী তাকে ধিক্কার জানাবে বলেও উল্লেখ করেন। এখন চাঁদাবাজির সময় নাই। সবশেষে তার বিরুদ্ধে আইনি হস্তক্ষেপও কামনা করেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) রাজনীতির সাথে জড়িত এক ব্যবসায়ী ক্ষোভের ভাষায় উল্লেখ করেন, আকাশ মাহামুদ বিজ্ঞাপনের অজুহাতে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন। টাকা না দিলে নিউজ হবে বলেও কৌশলে হুমকি দেন। এছাড়াও তিনি উল্লেখ করেন, হাতিরপুলের কলাবাগান এলাকার একটি ভাড়া বাসায় ১বছরের অধিক সময় ব্যাপী বসবাস করলেও ভাড়া না দিয়ে উল্টো মামলা মোকদ্দমা ও পুলিশি হুমকির মুখে বাড়িওয়ালাকে হয়রানি করেন। এমন অসংখ্য প্রতারণার বিবরণও তিনি তুলে ধরেন। এছাড়াও তিনি উল্লেখ করেন, আকাশের বৈধ উপার্জনের রাস্তা না থাকলেও ঢাকায় উন্নত ফ্ল্যাটে পরিবার নিয়ে বিলাসী জীবনযাপন করেন। কৌশলগত চাঁদাবাজিই তার একমাত্র পেশা। অধিকতর তদন্তে গোয়েন্দা নজরদারিতে বাস্তবতা উঠে আসবে বলেও তিনি দাবি করেন।
ছাতিরচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান চৌধুরী ওরফে ইয়ার খাঁন বলেন, সাজানো মামলার জালে জড়িয়ে আর প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে গুজব রটিয়ে প্রশাসনের সর্বোচ্চ মহলের কর্মকর্তাদের সাথে সম্পর্কের দোহাই দিয়ে, স্থিরচিত্র ও প্রমাণাদির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে থাকেন। তার কাছে এই পর্যন্ত বিজ্ঞাপনের কথা বলেও দুই দফায় ৬০হাজার টাকা নিয়েছেন বলে জানান। আক্কাসকে বিজ্ঞাপনের অনুমতি না দিলেও কৌশলে ফায়দা লুটেন। টাকা না দিলে নিউজ হবে বলেও হুমকি দিয়ে থাকেন। এমন অসংখ্য অভিযোগের তথ্য মিলে তার বিরুদ্ধে।
এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে টাকার জন্যে মানুষকে আক্কাস আলী নানানভাবে কৌশলের ফাঁদে ফেলে অর্থনৈতিক সুবিধা নেন। বেকার যুবকদেরকে সাংবাদিক তৈরি করে দেওয়ার নাম করেও বিভিন্ন কৌশলে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে কখনো তিনি বিজ্ঞাপনের চলে, কখনো আবার অসুস্থতার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। আকাশের চরিত্রের অন্যতম দিক হলো তার অপকর্মের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে তার উপরে কৌশলে প্রতিশোধে নেমে পড়েন। এমনকি তার ব্যক্তিগত স্বার্থে আঘাত লাগলেই উল্টো ভালো চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তিকেও অপরাধী সাজিয়ে দেওয়ার প্রাণপণে চেষ্টাটা চালিয়ে বেড়ান। আকাশের নিবর চাঁদার শিকার নিকলী-বাজিতপুরের অসংখ্য রাজনৈতিক নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে বিভিন্ন জেলা-উপজেলার ব্যবসায়ী। স্বার্থ হাসিলের লক্ষ্যে নানানভাবে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার স্থানীয় কর্মচারী থেকে শুরু করে কর্মকর্তাদেরকেও উর্ধ্বতনদের কথা বলে তটস্থ করে রাখেন।
তার অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে গণমাধ্যমকমী যখন নিজের পরিচয় দিয়ে সাক্ষাৎকার নিতে চান এমন পরিস্থিতিতে তিনি নানান ধরনের টালবাহানা করেন। এমনকি প্রাসঙ্গিক উত্তর না দিয়ে উল্টো প্রতিবেদকের উপর বানোয়াট, আজগুবি অভিযোগ দাঁড় করানোরও অপচেষ্টা চালিয়ে বেড়ান। প্রতিবেদককে মুঠোফোনে বারবার বিরক্তের পাশাপাশি ভিন্ন কৌশলে মামলা মোকদ্দমারও হুমকি প্রদর্শন করেন।
প্রথম পর্ব সমাপ্ত আগামী পর্বে চোখ রাখুন…