• সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫২ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও গুলির ঘটনায় সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের নামে মামলা নিকলীর হাওরে থেমে গেছে বৈঠার ঝড় হারিয়ে যাচ্ছে নৌকা বাইচের ঐতিহ্য, ক্ষয়ে যাচ্ছে হাওরের লোকসংস্কৃতি ও পর্যটন সম্ভাবনা নিকলীতে বালু উত্তোলনের ঘটনাসহ পৃথক ঘটনায় নিহত –২ পর্যটন হাওরে গোসলে নেমে নিখোঁজ পর্যটক ২৪ ঘণ্টা পেরিয়েও মেলেনি সন্ধান, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত হাওরে মাছ কমছে, প্রভাব পড়ছে কিশোরগঞ্জের শতবর্ষী শুঁটকি শিল্পে  নিকলীতে প্রবীণ আওয়ামীগ নেতা ও সাবেক ৪ বারের চেয়ারম্যান আজমল হোসেন গ্রেফতার  আবহাওয়ার আমূল পরিবর্তনের ফলে হাওরের জীববৈচিত্র্য, মৎস্যসম্পদ ও জনজীবনে চ্যালেঞ্জ      হাওরে প্রবেশদ্বার এলাকায় দস্যুদের তাণ্ডব: শিশুকে হত্যা হুমকিতে লুটে নেয় আড়াই লক্ষাধিক টাকা হাওরাঞ্চলের চামড়া অধিকাংশ মাদ্রাসা ও এতিমখানায় আর অনেকে পুঁতে রাখাসহ নদী ও ডোবানালায় ফেলেছেন নিকলী-বাজিতপুরে বিএনপিতে বিভক্তি, সুবিধা নিচ্ছে আ’লীগ মুষলধারে বৃষ্টিতেও শোলাকিয়ায় ঈদের নামাজীর ঢল

নিকলী-বাজিতপুরে জরিমানা সত্বেও থেমে নেই বালি খেকোদের তাণ্ডবলীলা!

Reporter Name / ৮৫৯ Time View
Update : সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ কিশোরগঞ্জের নিকলী-বাজিতপুরে প্রসাশন একদিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে দূর্গা পূজা উপলক্ষে অপরদিকে বালি দানবেরা ব্যস্ত রয়েছেন অবৈধ ভরাট কার্যক্রমে। তবে সচেতন মহলের ভাষ্য প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করে নিয়েছে অসাধুরা। জরিমানা সত্বেও থেমে নেই অবৈধভাবে ভরাট কার্যক্রম। সাম্প্রতিক প্রসাশনও দেখাচ্ছে ব্যস্ততার অজুহাত পূজার ছলে! 

নিকলী ও বাজিতপুরের বিভিন্ন ইউনিয়নে বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে খাল, পুকুর, জলাশয় ও ফসলি জমি ভরাট কার্যক্রম চলছে দীর্ঘদিন থেকেই। প্রশাসনের ভাষ্য, নিয়মের মধ্যে দিয়ে যারা ভরাট করছে তাদের বিষয়ে কিছু বলার নেই। তবে নিয়মবহির্ভূত ঘটনার খবর পেলেই জরিমানা করা হচ্ছে। 

তবে সরেজমিনে দেখা গেছে জরিমানায়ও থেমে নেই বালি ভরাট কার্যক্রম। নিকলী বাজিতপুরে চোখ মেললেই ধরা পড়ে বালু দানবের এসব তান্ডব লীলা। কোথাও কোথাও বিশাল আকৃতির স্তূপ আর কোথাও অবৈধভাবে জলাশয় ভরাট কার্যক্রম। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের ভাষ্য, টাকা দিলেই মিলে যাচ্ছে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুমতি আর টাকা না দিলেই করা হচ্ছে জরিমানা!

একদিকে চোখ মেললেই নিকলী উপজেলার সোয়াইজনী,গোড়াউত্রা ও নরসুন্দার বুকে দিয়ে বালি বোঝাই করা নৌকার দৃশ্য চোখে পড়ে। অপর দিকে বাজিতপুরের ঘোড়াউত্রা নদীর বিভিন্ন শাখা উপশাখায় ধরা পড়ে এ সব দৃশ্য।

নিকলী উপজেলা পরিষদের সংলগ্নে যেখানে অসংখ্য পুরোনো পুকুরের অস্তিত্ব ছিল কয়েক মাসের ব্যাবধানে আজ অস্তিত্ব বিলীন। উপজেলা প্রশাসনের নাকের ডগায় বার বার পুকুর ভরাট চললেও রহস্যজনক কারনে নীরব কর্তৃপক্ষ এমন অভিযোগ সচেতন মহলের। এ বালু ভরাটকে কেন্দ্র করে গত ১২ আগষ্ট উপজেলা সদরে বিএনপির দুপক্ষের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। 

এ ঘটনায় পৃথকভাবে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করা হয়েছে। মাঝে মাঝে দৃষ্টান্তমূলক ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনায় অর্থদন্ড করলেও পরক্ষনেই শুরু হয় ভরাট কার্যক্রম।

জানা গেছে গত ২৮,সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে উপজেলার দামপাড়া ইউনিয়নের কামালপুর গ্রাম সংলগ্নে বালু ভরাটের সময় ড্রেজারে অবস্থানরত শ্রমিকের কাছে বালু ভরাটের বৈধতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা উল্লেখ করেন, ইউএনও স্যার একজনের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে এসেছিলো এবং বালু ভরাট কার্যক্রম সঠিক আছে বলে গেছেন। ড্রেজার মালিক মামুন মিয়ার সাথে সাংবাদিকদের মুঠোফোনে কথা হলে তিনিও ড্রেজার শ্রমিকের মতো একই তথ্য তুলে ধরেন। শুধু নিকলী উপজেলা সদরেই নয় এমন দৃশ্যের দেখা মিলে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের প্রায় সব ক’টিতেই।

অপরদিকে বাজিতপুর উপজেলার ১১টি ইউনিয়নসহ পৌরসভার ভেতরেও একই অবস্থা বিরাজমান । তবে অন্যান্য ইউনিয়নের তুলনায় কৈলাগ এবং হিলোচিয়াতেই অধিক পরিমাণে। বাজিতপুর উপজেলার হিলোচিয়া ইউনিয়নের জুলফিকার আহমেদ মারবিন জানান, হিলোচিয়াতে থেমে নেই অবৈধভাবে পুকুর ভরাট কার্যক্রম। গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৮ টার দিকে সাবেক আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ঝন্টু কুমার সাহার পুকুরে বালি ভরাট নিয়ে বিএনপির একই গ্রূপের মধ্যে ভাগবাঁটোয়ারাকে কেন্দ্র করে ড্রেজার চলমান অবস্থায় ৪ লাখ টাকার কাছাকাছি মালামাল কুড়াল ও লোহার রড ও সাবলের মাধ্যমে ভাংচুর করে। এ নিয়ে দ্বন্দ্ব চরমে। হিলোচিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নিয়াজ মামুনুর রহমান পুটন এবং একই ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির আলমসহ সাংগঠনিক সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান লিটু গ্রুপের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও ধস্তাধস্তি হয়। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে একটি ভিডিও ফুটেজে ট্রেজার মালিক কুকড়ারায়ের রফিককে বলতে শোনা গেছে আনোয়ার মারফতে ৩ নেতার জন্যে আলমের কাছে প্রতিদিন ৫০হাজার টাকা করে দেওয়া হলেও তাদের ভাগবাটোয়ারার দ্বন্দ্বে কেনো আমার এতো বড় ক্ষতি করলো!

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এসব বালি উত্তোলনে জড়িত রয়েছে স্থানীয় বিএনপির উপর মহলের নেতাকর্মী। বিষয়টি সাধারণ  জনগণের দৃষ্টিগোচর  হলেও তাদের নাম বলতে নারাজ স্থানীয়রা।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর বাজিতপুর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা দিলালপুর ইউনিয়নে অবৈধ বালি অভিযানে গিয়ে বিতর্কিত অবস্থানে জড়িয়ে পড়েন বলে এলাকায় অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ইউএনও বিতর্কিত অবস্থানের বিষয় ভাইরাল।

এই বিষয়ে বাজিতপুর উপজেলার নিবার্হী কর্মকর্তা ফারাশিদ বিন এনামকে ২৯ সেপ্টেম্বর বিকালে একাধিকবার ফোন করা হলেও পাওয়া যায়নি।

নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহানা মজুমদার মুক্তি বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে তিনি গিয়েছিলেন সেখানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করার মতো কোনো আলামত খুঁজে পাননি বলে উল্লেখ করেন। এমনকি ড্রেজার মালিকের তথ্য ভুল বলে প্রকৃত ঘটনা পাশ কাটিয়ে যান।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd