ছাতিরচরের কৃতী সন্তান হাওর প্রেমী কবি ও সাহিত্যেক মহিবুর রহমানের অকাল মৃত্যুতে হাওরবাসীর গভীর শোক।
নিজেস্ব প্রতিবেদনঃ কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার ছাতিরচর ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আমজাদ হোসেনের কৃতি সন্তান কবি সাহিত্যিক গবেষক ব্রাহ্মণবাড়িয়র চিনাইর ডিগ্রী কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মহিবুর রহিম (৫৫) গতকাল বুধবার ১৬ জুলাই ২০২৫ দিবাগত মধ্যরাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। বৃহস্পতিবার ১৭ই জুলাই ২০২৫ বিকালে তার গ্রামের বাড়ি ছাতিরচরে জানাজা শেষে দাফন করা হবে বলেও জানা গেছে। বেঁচে থাকার সময়ে ডায়বেটিকসহ একাধিক রোগে আক্রান্ত হলেও সদা হাসিখুশি মনের প্রাণোচ্ছল সদালাপী সরল মনের মানুষ ছিলেন তিনি। তাঁর হাত ধরে অনেকেই সাহিত্য ও লেখালেখির জগতে পা রেখেছেন। তাঁর নিজ গ্রাম ছাতিরচর তথা হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকা নিয়ে তাঁকে ভাবিয়ে তুলতে দেখা যেতো প্রায় সময়েই তার কথায় ও লেখনির মাধ্যমে। অসংখ্য তথ্যসূত্রে জানা গেছে, ছাতিরচরের একটি মাত্র গ্রামকে ইউনিয়নে রূপান্তরিত করার পিছনে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছেন মহিবুর রহিম। এমনকি ৯০ দশকের পর থেকে এই পর্যন্ত ছাতিরচরের যত সব উন্নয়ন হয়েছে এসবের প্রতি ধাপে ধাপে রয়েছে মহিবুর রহিমের নানাবিধ অবদান। সেখানকার পরিবেশ রক্ষা থেকে শুরু করে সৌন্দর্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এবং বৃক্ষরোপণ ও বেড়িবাঁধ নির্মাণের ক্ষেত্রে রয়েছে মহিবুর রহিমের সবচেয়ে বেশি অবদান। কর্মময় ব্যস্ত জীবনে তিনি এলাকা ছেড়ে দূরে থাকলেও সকল যোগাযোগ ছিলো তার উন্নয়নের পিছনে। এলাকার লোকজনের সাথে নিয়মিত ছিলো তার যোগাযোগ বিভিন্ন মাধ্যমে। প্রায়ই তিনি কথা প্রসঙ্গে নদী ভাঙ্গন কবলিত ছাতিরচরের অতীত ইতিহাস তুলে ধরতেন। এমনকি শৈশব স্মৃতি চারণে তাঁকে চোখের জল জড়াতেও দেখা গেছে। কিভাবে বাপদাদার বসতভিটা নদী কেড়ে নিয়েছে, কিভাবে নদী তাদের মতো অসংখ্য পরিবারকে এলাকা ছাড়া করতে বাধ্য করেছে। এমন বাস্তবতা তিনি প্রায়ই তুলে ধরতেন তার ভাষায়। তাঁর অসংখ্য লিখনি প্রমাণ করে তিনি কতটা হাওর প্রেমি ছিলেন। কবি আল মাহমুদসহ অসংখ্য কবি সাহিত্যিকও তাঁর একান্ত চাওয়ায় ছাতিরচরের বাস্তবতা উপলব্ধিতে এসেছেন। এছাড়াও তিনি সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকা থেকে শুরু করে অসংখ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিদের জীবন ও তাদের কৃতিত্ব তুলে ধরেছেন তাঁর বিভিন্ন লিখনির মাধ্যমে। তিনি ছিলেন অত্যন্ত বন্ধু প্রিয় একজন মানুষ। তাঁর অসংখ্য গঠনমূলক লেখা বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকসহ ম্যাগাজিনে স্থান করে নিয়েছে। তার লিখনীর মাধ্যমে বেঁচে থাকার জীবনে নানানভাবে পুরস্কৃতও হয়েছেন। শুধু নিজ জেলা কিশোরগঞ্জের বিষয়েই নন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন দিক থেকে শুরু করে গোটা বাংলাদেশের বিভিন্ন বিষয়ের বাস্তুতবতাও প্রায়ই তুলে ধরেছেন। তিনি ছিলেন লেখক হিসেবে হারাঞ্চলের স্বপ্নদ্রষ্টা। হাওরের বুকে বেড়ে উঠা রাখালদের সাথে সময় কাটানোর সাথে জড়িত করুন ট্রাজেডির সাথে জড়িয়ে থাকা সংগ্রামী কবি সাহিত্যিক মহিবুর রহিম প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে অনার্স মাস্টার্স শেষ করে প্রিয়জনদের অনুপ্রেরণায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চিনাইর ডিগ্রী কলেজে প্রভাষকের চাকরী নেন। সেই সুবাদে সেখানে অবস্থানকালেই তাঁর মৃত্যু হয়। কবি মহিবুর রহিমের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর খবরে তার স্বজন-সঙ্গী ও গুনগ্রাহীদের মাঝে শোকের জন্ম দিয়েছে। মৃত্যুকালে স্ত্রী সন্তান ভাই-বোন সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি তাঁর কৃতকর্মে জন্যে নানান লিখনীর মাধ্যমেই গুণগ্রাহীদের মাঝে বেঁচে থাকবেন বলেও স্বজন-সঙ্গীদের অভিমত। সেই সাথে বিদেহী আত্মার মাগফেরাতও কামনা করেছেন।